সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৩:৩৪ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা বিভিন্ন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে […]

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা বিভিন্ন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে হলে কনস্যুলার কর্মকর্তারা তার অভিবাসী ভিসার আবেদন নাকচ করতে পারবেন।

এই নতুন নীতির বিষয়ে দূতাবাস ও কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই সাময়িকভাবে বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

স্থগিতাদেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত এবং ‘কনস্যুলার প্রসেসিং’-এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের ওপর। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে যারা সাক্ষাৎকারের তারিখ পেয়েছিলেন, তাদের অনেকের সাক্ষাৎকার বাতিল বা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’-এর মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা ব্যক্তিদের ওপর এই স্থগিতাদেশের বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে।

নতুন নীতির সময়কাল নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মেমফিসের সিসকাইন্ড সুসারের অংশীদার ও অভিবাসন আইনজীবী এলিসা তউব বলেন, মার্কিন সরকারের অর্থবছর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে বরাদ্দ থাকা অভিবাসী ভিসাগুলো ইস্যু করা সম্ভব না হলে সেগুলোর একটি বড় অংশ ব্যবহারের সুযোগ হারাতে পারে।

তার মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বরাদ্দ করা ভিসা ব্যবহার করা না গেলে সেগুলো চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক হয়ে উঠতে পারে।

এলিসা তউব আরও বলেন, নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে আবেদনকারীদের প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আবেদনকারীদের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে সীমিত বা ধীর করার এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর নতুন করে ভিসা বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে।

বর্তমান স্থগিতাদেশ কতদিন চলবে, সে বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। ফলে সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের কবে আবার প্রক্রিয়ায় ফিরতে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করা আবেদনকারীদের জন্য এই স্থগিতাদেশ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা এখন সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারণ এবং অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ