সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৫:১১ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬

মার্কিনীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের দাবি রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিলের দাবি জোরালো করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গ্রেগ স্টিউবি। তাঁর অভিযোগ, এই ভিসা ব্যবস্থার কারণে মার্কিন কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং দেশীয় শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ‘এন্ডিং এক্সপ্লয়টেটিভ ইমপোর্টেড লেবার এক্সেম্পশনস অ্যাক্ট’ বা ‘এক্সাইল অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। বিলটিতে […]

মার্কিনীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের দাবি রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিলের দাবি জোরালো করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গ্রেগ স্টিউবি। তাঁর অভিযোগ, এই ভিসা ব্যবস্থার কারণে মার্কিন কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং দেশীয় শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ‘এন্ডিং এক্সপ্লয়টেটিভ ইমপোর্টেড লেবার এক্সেম্পশনস অ্যাক্ট’ বা ‘এক্সাইল অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। বিলটিতে এইচ-১বি কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে।

ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্টিউবি বলেন, তাঁর প্রস্তাবিত বিল পাস হলে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে। দেশীয় কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার যুক্তিতে তিনি কর্মসূচিটির বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করেন।

নিজের দাবির পক্ষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের উদাহরণ তুলে ধরেন। স্টিউবির দাবি, মাইক্রোসফট ১৬ হাজার মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করার পর এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে ৯ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিজনি ২৫০ মার্কিন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার পর বিদেশি কর্মীদের দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। এসব উদাহরণকে এইচ-১বি ব্যবস্থার অপব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। কংগ্রেসম্যান স্টিউবির নিজস্ব কার্যালয়ও তাঁর বিলের ব্যাখ্যায় মাইক্রোসফট ও ডিজনির এসব সংখ্যার উল্লেখ করেছে।

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর সমর্থকেরা মনে করেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষায়িত দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এই কর্মসূচি প্রযুক্তি, গবেষণা ও অন্যান্য খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করে। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এই ভিসা ব্যবহার করে এবং এতে মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমে যায়।

এই বিতর্কের মধ্যেই এইচ-১বি ভিসার খরচ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোটার আওতাভুক্ত প্রতিটি এইচ-১বি পিটিশনের জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে। এই অর্থ অন্যান্য প্রযোজ্য ফি বা অর্থপ্রদানের পাশাপাশি দিতে হবে।

ডিএইচএস জানিয়েছে, নতুন ফি থেকে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন ব্যয় মেটানোর জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হবে। এর আওতায় অভিবাসন সুবিধার আবেদন যাচাই, জালিয়াতি শনাক্তকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা যাচাই, প্রযুক্তি ও নথি ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন আদালত পরিচালনা, কনস্যুলার কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাজ রয়েছে।

সরকারের হিসাবে, বছরে ৮৫ হাজার এইচ-১বি ক্যাপ-সাবজেক্ট পিটিশন ধরে এই নতুন ফি থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বার্ষিক রাজস্ব আসতে পারে। প্রস্তাবটি বর্তমানে জনমত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত ফি সব ধরনের এইচ-১বি পিটিশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ডিএইচএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোটার বাইরে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠান—যেমন নির্দিষ্ট অলাভজনক গবেষণা সংস্থা, সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান—এই অতিরিক্ত ফি থেকে বাদ থাকবে।

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার এইচ-১বি বাতিলের উদ্যোগ এবং প্রশাসনের বিপুল অঙ্কের ফি আরোপের প্রস্তাব—দুটি পদক্ষেপই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শ্রমবাজার নীতি আরও কঠোর করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ, মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান এবং এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ