আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। মাসটিতে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৬২ হাজার নন-ফার্ম কর্মসংস্থান যোগ হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দুর্বলতার পর মার্কিন চাকরির বাজারে কিছুটা গতি ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে। শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি বলেছে, জুলাইয়ে মাত্র ২১ হাজার চাকরি যোগ হওয়ার […]
ছবি: সংগৃহীত
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। মাসটিতে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৬২ হাজার নন-ফার্ম কর্মসংস্থান যোগ হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দুর্বলতার পর মার্কিন চাকরির বাজারে কিছুটা গতি ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি বলেছে, জুলাইয়ে মাত্র ২১ হাজার চাকরি যোগ হওয়ার পর আগস্টের প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত ১২ মাসে মাসপ্রতি গড়ে ৩১ হাজার কর্মসংস্থান বাড়লেও আগস্টের সংখ্যা তার তুলনায় অনেক বেশি।
তবে চাকরি বাড়লেও বেকারত্বের হার কমেনি। আগস্টে দেশটির বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সময়ে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার বেড়ে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে।
আগস্টের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে খাদ্যসেবা ও পানীয় পরিবেশন খাত থেকে। এ খাতে প্রায় ৫৯ হাজার ২০০ নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। আগের ১২ মাসে খাতটিতে মাসপ্রতি গড়ে প্রায় ১২ হাজার চাকরি বাড়লেও আগস্টের প্রবৃদ্ধি ছিল অনেক বেশি।
স্থানীয় সরকারের শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আগস্টে এ খাতে প্রায় ৪১ হাজার ৯০০ চাকরি যোগ হয়েছে। জুলাইয়ের বড় পতনের পর নতুন নিয়োগের মাধ্যমে খাতটি আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
উৎপাদন খাতেও কর্মসংস্থান বেড়েছে। আগস্টে উৎপাদন খাতে প্রায় ১৬ হাজার নতুন চাকরি হয়েছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি ও ধাতব পণ্য উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কিছু অংশে নিয়োগ বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতেও প্রায় ১২ হাজার ৯০০ চাকরি যোগ হয়েছে।
সব খাতে অবশ্য চাকরি বাড়েনি। তথ্য খাতে আগস্টে প্রায় ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। কম্পিউটিং অবকাঠামো, ডেটা প্রসেসিং, ওয়েব হোস্টিং, প্রকাশনা এবং সম্প্রচারসংশ্লিষ্ট কিছু ব্যবসায় চাকরি হ্রাস পেয়েছে।
অর্থাৎ সামগ্রিক কর্মসংস্থান বাড়লেও বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধির চিত্র এক নয়। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও তথ্য খাতে নিয়োগ কমার বিষয়টি শ্রমবাজারের ভেতরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আগস্টে মার্কিন কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ে এই বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বাড়লেও বৃদ্ধির গতি সামান্য কমেছে।
অর্থনীতিবিদদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ একই সময়ে কর্মসংস্থান ও মজুরি বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। মজুরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কম থাকা সেই চাপের একটি দিককে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখছে।
আগস্টের শক্তিশালী কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শক্তিশালী চাকরির বাজার অর্থনীতিতে চাহিদা ধরে রাখার ইঙ্গিত দেয়, ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের জন্য সুদ কমানোর পরিবর্তে কঠোর অবস্থান ধরে রাখার যুক্তি কিছুটা জোরালো হতে পারে।
তবে শ্রমবাজারের পুরো চিত্র এখনো একেবারে শক্তিশালী বলা যাচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি বেকার থাকার মধ্যম সময়ও বেশ উঁচু পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নতুন চাকরি তৈরির গতি বাড়লেও চাকরি খুঁজছেন এমন সবার জন্য পরিস্থিতি সমানভাবে উন্নত হয়নি।
আগস্টের পরিসংখ্যান তাই মার্কিন অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর হলেও এটিকে পুরোপুরি শক্তিশালী শ্রমবাজারের প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন না অনেক বিশ্লেষক। কর্মসংস্থান, মজুরি, বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির পরবর্তী তথ্যই দেখাবে এই উন্নতি কতটা স্থায়ী হয়।