জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ শুধু একজন আন্দোলনকারী নন, তিনি জুলাই শহীদদের ইমাম এবং জুলাই বিপ্লবের রূহানী নেতৃত্ব। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের রূপ লাভ করে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু […]
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ শুধু একজন আন্দোলনকারী নন, তিনি জুলাই শহীদদের ইমাম এবং জুলাই বিপ্লবের রূহানী নেতৃত্ব। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের রূপ লাভ করে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের এই মাটিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ স্বৈরাচারী শাসনের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। দুই হাত প্রসারিত করে তিনি অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি; বরং বুকে গুলি নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তার সেই আত্মত্যাগই দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে।
তিনি বলেন, “আবু সাঈদ আমাদের শহীদদের ইমাম, জুলাই বিপ্লবের রূহানী নেতৃত্ব এবং আমাদের সংগ্রামের অগ্রসেনানী। তার আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের পথকে আলোকিত করেছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী অন্য শহীদদেরও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, শহীদ নাঈমা সুলতানা, শহীদ রিয়া গোপ, শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ জাতি কখনও ভুলবে না। একই সঙ্গে তিনি প্রায় ৩০ হাজার আহত আন্দোলনকারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আবু সাঈদের শাহাদাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, অভিভাবক, আলেম সমাজ, নারী, প্রবাসী, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সম্মিলিত আত্মত্যাগই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করেছে।
তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই যথেষ্ট নয়; তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব।
বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের পর আমাদের সামনে তিনটি বড় দায়িত্ব ছিল—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। জনগণ দ্রুত বিচার কার্যকর হতে দেখতে চায়।”
তিনি জানান, আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। মামলাটি আপিল পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করা উচিত। দেশের মানুষ সেই বিচার দেখতে চায়।”
কবর জিয়ারতের পর এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।