যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাইতি ও সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য দেওয়া বিশেষ আইনি সুরক্ষা ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) বাতিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুমতি দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এক রায়ে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেন, টিপিএস সুবিধা দেওয়া বা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তের ওপর বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার […]
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাইতি ও সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য দেওয়া বিশেষ আইনি সুরক্ষা ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) বাতিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুমতি দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এক রায়ে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেন, টিপিএস সুবিধা দেওয়া বা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তের ওপর বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত।
রায়ে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিতো উল্লেখ করেন, হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা চলমান থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার আইনি অধিকার আবেদনকারীদের নেই।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, নিল গোরসাচ, ব্রেট কাভানফ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেট রায়ের পক্ষে মত দেন। অপরদিকে আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন।
১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস টিপিএস কর্মসূচি চালু করে। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য এই কর্মসূচি তৈরি করা হয়।
২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের টিপিএস সুবিধার আওতায় আনা হয়। পরে দেশটিতে চলমান সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এই সুবিধার মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়। অন্যদিকে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১২ সালে দেশটির নাগরিকদের জন্য টিপিএস কার্যকর করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, টিপিএস কর্মসূচি সাময়িক সুরক্ষার জন্য তৈরি হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির স্বার্থে এই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আদালতে যুক্তি দেয় যে, তারা আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং টিপিএস বাতিলের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত আদালতের পর্যালোচনার আওতায় পড়ে না।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, হাইতি ও সিরিয়ার পরিস্থিতি এখনও নিরাপদ নয় এবং হাজার হাজার মানুষকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে কয়েক লাখ হাইতি ও সিরীয় নাগরিক তাদের বৈধ কর্মসংস্থান, বসবাসের অনুমতি এবং অন্যান্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। অনেকের জন্য বহিষ্কারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি বড় আইনি বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের টিপিএস সুবিধা বাতিলের ক্ষেত্রেও এই রায় নজির হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি হাইতিয়ান এবং প্রায় ৬ হাজার সিরীয় নাগরিক টিপিএস সুবিধার আওতায় রয়েছেন। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।