সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিনোদন
৫:৪৪ পিএম, ২০ আগস্ট ২০২৬

ইতালির হোটেলকাণ্ডে নতুন দাবি: ‘যে রুম নিয়ে অভিযোগ, সে রুমে ছিলেনই না জেমস’

ইতালির রোমে নগরবাউল জেমসের কনসার্টকে ঘিরে হোটেলকক্ষ অপরিষ্কার রেখে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে নতুন বক্তব্য দিয়েছেন তার মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন। তার দাবি, যে কক্ষের ছবি ও অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেই কক্ষে জেমস ছিলেনই না। ফলে ওই কক্ষের অবস্থার দায় তার ওপর দেওয়া ঠিক নয়। গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিতে জেমস ও […]

ইতালির হোটেলকাণ্ডে নতুন দাবি: ‘যে রুম নিয়ে অভিযোগ, সে রুমে ছিলেনই না জেমস’

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইতালির রোমে নগরবাউল জেমসের কনসার্টকে ঘিরে হোটেলকক্ষ অপরিষ্কার রেখে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে নতুন বক্তব্য দিয়েছেন তার মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন। তার দাবি, যে কক্ষের ছবি ও অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেই কক্ষে জেমস ছিলেনই না। ফলে ওই কক্ষের অবস্থার দায় তার ওপর দেওয়া ঠিক নয়।

গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিতে জেমস ও তার সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। কনসার্ট শেষে হোটেল থেকে বের হওয়ার পর ওই কক্ষের কয়েকটি ছবি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজক প্রতিনিধির কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছবিগুলোতে কক্ষের মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতল ও বিভিন্ন আবর্জনা, ডাইনিং টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট দেখা যায়। রান্নাঘরের সিঙ্কেও নোংরা থালা-বাসনের সঙ্গে কাঁচা ডিম পড়ে থাকতে দেখা যায়।

হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজক প্রতিনিধিকে পাঠানো বার্তায় কক্ষটির অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ জানায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হোটেলটির সুবিধা ব্যবহার করতে হলে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিশোধের কথা জানানো হয়।

তবে জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন অভিযোগের সঙ্গে জেমসের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দলের জন্য মোট চারটি কক্ষ নেওয়া হয়েছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, তিনি নিজে ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে এবং অভিযোগ ওঠা ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের অন্য এক মিউজিশিয়ান।

রবিনের দাবি, একজনের কক্ষের অবস্থার দায় জেমসের ওপর চাপানো ঠিক নয়। জেমস বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী হওয়ায় তাকে নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানোও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে জেমস ও তার সফরসঙ্গীরা হোটেলের নিয়ম না মেনে বা রিসেপশনে যোগাযোগ না করে কক্ষ ছেড়ে গেছেন—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এটিও অস্বীকার করেছেন রবিন। তার বক্তব্য, দলের অনেক সদস্য ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গোপনে হোটেল ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তারা সবার সামনে হোটেল থেকে বের হয়ে ভেনিসে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

কনসার্ট ঘিরে অর্থনৈতিক অভিযোগও

রোমের কনসার্টকে কেন্দ্র করে আয়োজক পক্ষ থেকে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে। ইতালির আয়োজক হোসাইন আহমেদ দাবি করেছেন, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ এবং টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে হিসাবের জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, জেমসের ম্যানেজার রবিন এ অর্থের হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশও ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করেন হোসাইন আহমেদ।

তবে রবিন অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, অন্য সব কনসার্টের মতো এ অনুষ্ঠানেও আয়োজকদের সঙ্গে চুক্তি ছিল। চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়ে থাকলে আয়োজকেরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবিন আরও বলেন, তারা ইতালিতেই অবস্থান করছেন এবং চুক্তি ভঙ্গের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারত। এ ধরনের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও অভিযোগ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জেমসের ভক্তদের একাংশ বিষয়টিকে আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ হিসেবে দেখছেন। তবে হোটেলকক্ষের অভিযোগ এবং কনসার্ট ঘিরে অর্থনৈতিক বিরোধের বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্তের ফল প্রকাশ হয়নি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ