ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নিজ দেশ কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী শাকিরা। দেশটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি চোকো সফর করে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণ এবং ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠনে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার বাড়িঘর […]
ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নিজ দেশ কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী শাকিরা। দেশটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি চোকো সফর করে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণ এবং ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠনে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের দ্রুত আবার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার চোকোর রাজধানী কুইবদো সফর করেন শাকিরা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ধনকুবের ও সমাজসেবী হাওয়ার্ড জি. বাফেট। তারা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
শাকিরা জানান, তার পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন হাওয়ার্ড জি. বাফেট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় চোকোতে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণে কাজ করবে। পাশাপাশি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিভার্সিদাদ তেকনোলজিকা দেল চোকো পুনর্গঠনেও সহায়তা করা হবে।
এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছে। গ্লোবাল সিটিজেন ও লাইভ নেশন যৌথভাবে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সিএএফ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শাকিরা বলেন, চোকোর মানুষের প্রতি দীর্ঘদিনের একটি ‘ঐতিহাসিক ঋণ’ রয়েছে। কলম্বিয়ার তুলনামূলক দরিদ্র ও দীর্ঘদিন অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষ যেন দুর্যোগের জরুরি পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর আবারও উপেক্ষিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষা খাতে শাকিরার কাজ অবশ্য নতুন নয়। তার পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চোকোসহ কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের শিক্ষা ও স্কুল অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। হাওয়ার্ড বাফেটের ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও এর আগে একাধিক শিক্ষা প্রকল্পে কাজ করেছে সংস্থাটি।
ভূমিকম্পের পর শাকিরার এবারের উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পুনর্নির্মাণ নয়, যত দ্রুত সম্ভব শিশুদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে স্কুলগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।