ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা করছে। শক্তিশালী […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা করছে। শক্তিশালী এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে অজনপ্রিয় যুদ্ধ এবং এর ফলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও গ্রীষ্মকাল থেকে আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
এমওএবি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ইরানের গভীর ভূগর্ভে থাকা পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে বোমাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, এমওএবি মূলত বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য তৈরি। তবে এর কার্যকারিতা মূলত এ ধরনের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ওই ব্যক্তি আরও বলেন, বোমাটি গভীর ভূগর্ভে প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়নি। ফলে ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতেই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এমওএবির মতো শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন সামরিক অভিযান কমিয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বার্তা সংস্থা এএফপি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এর আগে ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে এমওএবি ব্যবহার করেছিল। সে সময় একটি সুড়ঙ্গ ও বাংকারের জটিল নেটওয়ার্কে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়। এতে ৯০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে জানানো হয়।
ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হলে এই বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সূত্র: সিএনএন ও এএফপি