সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

প্রধান খবর
১২:৪১ পিএম, ২৪ জুন ২০২৬

ইরান চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায় উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট ও কার্যকর নিশ্চয়তা চাইছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বড় একটি অংশ এসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব […]

ইরান চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায় উপসাগরীয় দেশগুলো

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট ও কার্যকর নিশ্চয়তা চাইছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বড় একটি অংশ এসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio। তার এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় তাদের অবস্থান।

সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় দুই হাজার আটশোর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে বলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় আমিরাতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আমিরাত সফর শেষে মার্কো রুবিওর কুয়েত সফরেরও কথা রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে কুয়েতের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোও হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কুয়েত সরকার এসব স্থাপনাকে দেশের জন্য “রেড লাইন” হিসেবে বিবেচনা করে, কারণ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ সুপেয় পানির সরবরাহ নির্ভর করে এসব ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর।

উপসাগরীয় দেশগুলোর আরেকটি বড় উদ্বেগের জায়গা হলো Strait of Hormuz। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতির একটি বড় অংশ এই প্রণালীর নিরাপদ ও অবাধ ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল।

এ কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়টি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এমন নিশ্চয়তা চাইছে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোকে উপলব্ধি করিয়েছে যে কেবল মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ফলে তারা এখন কূটনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি লিখিত নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ যাই হোক না কেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিজেদের ভূখণ্ড, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথকে ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ