যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ সীমা বহাল রেখেছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। চতুর্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় মামলার সঙ্গে যুক্ত আটটি উপাসনালয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)সহ ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান পরিচালনা সীমিত থাকছে। তবে এই […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ সীমা বহাল রেখেছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। চতুর্থ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় মামলার সঙ্গে যুক্ত আটটি উপাসনালয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)সহ ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান পরিচালনা সীমিত থাকছে।
তবে এই রায়ের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সব গির্জা, মসজিদ, মন্দির বা অন্যান্য উপাসনালয়ে আইসিই অভিযান নিষিদ্ধ হয়ে গেছে—এমন নয়। আদালতের আদেশটি মামলার বাদী আটটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে দেশজুড়ে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নয়।
মামলায় কোয়েকার, শিখ এবং কো-অপারেটিভ ব্যাপটিস্ট ফেলোশিপ-সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাদীদের যুক্তি, উপাসনালয়ে বা এর আশপাশে অভিবাসন অভিযান চালানোর আশঙ্কা তৈরি হলে অভিবাসীরা ভয়ে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বন্ধ করতে পারেন। এতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্মীয় ও সামাজিক সেবাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এই আইনি বিরোধের সূত্র ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের শুরুতে নেওয়া একটি নীতিগত সিদ্ধান্তে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রশাসন বাইডেন আমলের এমন একটি নীতি বাতিল করে, যেখানে গির্জা, স্কুলসহ কিছু ‘সংবেদনশীল স্থান’-এ অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধিনিষেধ ছিল। নীতি পরিবর্তনের পর এসব স্থানে আইসিই কর্মকর্তাদের অভিযান পরিচালনার সুযোগ বাড়ে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অপরাধীরা যেন গির্জা বা স্কুলকে গ্রেপ্তার এড়ানোর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। অন্যদিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করে, এই নীতির ফলে তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর দায়িত্বের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
মামলাটিতে ১৯৯৩ সালের রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট (RFRA) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই আইনে সরকার কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করলে নির্দিষ্ট কঠোর আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। আদালত মনে করেছে, বাদী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ধর্মীয় কার্যক্রমের ওপর যথেষ্ট গুরুতর বোঝা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখাতে পেরেছে।
নিম্ন আদালতের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের আদেশেও বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট বাদী উপাসনালয়গুলোতে জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া অভিবাসন অভিযান সীমিত রাখা প্রয়োজন। আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছিল, প্রশাসনিক বা বিচারিক পরোয়ানার ভিত্তিতে কিছু ধরনের গ্রেপ্তার বা তল্লাশি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।
ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে দাবি করেছে, নতুন নীতি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রার্থনা, উপাসনা বা ধর্মীয় সেবা পরিচালনা বন্ধ করছে না। শুধু সম্ভাব্য অভিবাসন অভিযানের কারণে মানুষ উপাসনালয়ে যাওয়া বন্ধ করবেন—বাদীরা এমন সম্পর্ক যথেষ্টভাবে প্রমাণ করতে পারেনি বলেও সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও বলেছে, আইসিই উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করে না। তবে কোনো বিপজ্জনক অপরাধী সেখানে আশ্রয় নিলে জননিরাপত্তার প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
আপিল আদালতের রায়টি তাই একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাক্কা, অন্যদিকে এর পরিধিও সীমিত। এটি শুধু মামলার সঙ্গে যুক্ত আটটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর।
বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনো ব্যক্তি শুধু গির্জা, মসজিদ বা অন্য কোনো উপাসনালয়ে অবস্থান করলেই আইসিইর গ্রেপ্তার থেকে স্বয়ংক্রিয় আইনি সুরক্ষা পাবেন—এমন কোনো অধিকার এই রায় তৈরি করেনি।
এ ছাড়া আপিল আদালত মামলার বাদীদের প্রথম সংশোধনীর স্বাধীনতা-সংক্রান্ত পৃথক দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের নীতি শেষ পর্যন্ত আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে বৃহত্তর আইনি লড়াই এখনো চলমান।
রায়ের ফলে আপাতত আটটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আগের সুরক্ষামূলক বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য উপাসনালয়ে আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স