সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
৪:২৯ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই নিয়ে সতর্কবার্তা: মানবজাতির অস্তিত্ব ঝুঁকিতে ফেলছে কোম্পানিগুলো, দাবি গবেষকের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন গবেষক। বিশ্বখ্যাত এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের ২৭ বছর বয়সী গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, এআই কোম্পানিগুলো দায়িত্বশীলতার সীমা উপেক্ষা করে স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকে টানা তিন বছর প্রি-ট্রেনিং গবেষক হিসেবে কাজ করা […]

এআই নিয়ে সতর্কবার্তা: মানবজাতির অস্তিত্ব ঝুঁকিতে ফেলছে কোম্পানিগুলো, দাবি গবেষকের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন গবেষক। বিশ্বখ্যাত এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের ২৭ বছর বয়সী গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, এআই কোম্পানিগুলো দায়িত্বশীলতার সীমা উপেক্ষা করে স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকে টানা তিন বছর প্রি-ট্রেনিং গবেষক হিসেবে কাজ করা কক্সন বলেন, উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নিয়েই তিনি উদ্বিগ্ন। তার দাবি, কোম্পানিগুলো এমন এক প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে কক্সন লেখেন, তিনি অ্যানথ্রোপিক থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং গত তিন বছরে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক—দুই প্রতিষ্ঠানেই প্রি-ট্রেনিং গবেষণা করেছেন। তার ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠান ‘স্ব-উন্নয়নশীল অতি-বুদ্ধিমত্তার’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে।

কক্সনের দাবি, এআই নিয়ে কাজ করা অনেক গবেষক ব্যক্তিগত আলোচনায় আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে চলতি দশকের শেষ নাগাদ উন্নত এআই পুরো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রকাশ্যে তারা অনেক সময় তুলনামূলক সতর্ক ভাষা ব্যবহার করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে কক্সন বলেন, খুব শিগগিরই এমন সুপারহিউম্যান সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে সক্ষম হবে এবং সমাজ ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে দ্রুত পরিবর্তন আনতে পারবে। তার মতে, এআইয়ের এই অগ্রযাত্রা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ওপেনএআইয়ে সভ্যতার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে তার প্রত্যাশার তুলনায় কম গুরুত্ব দেওয়া হলেও অ্যানথ্রোপিকে বিষয়টি বোঝা হচ্ছে। কিন্তু অন্য কেউ দায়িত্বশীল হবে না—এমন আশঙ্কায় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের আগে এগিয়ে নিতে চাইছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়াকে তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন।

অন্যান্য এআই গবেষকদের উদ্দেশে কক্সন প্রশ্ন তুলেছেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না করেই এমন সুপারইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম চালু করা কতটা যুক্তিযুক্ত। তিনি সাময়িকভাবে এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ স্থগিত রাখার কথাও বলেছেন।

কক্সনের বক্তব্যের পর অ্যানথ্রোপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের প্রধান ইভান হাবিংগারও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি। তবে বর্তমান এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা এখনো তৈরি হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে অ্যানথ্রোপিকের দীর্ঘদিনের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইলন মাস্কের অবস্থানও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। অতীতে তিনি অ্যানথ্রোপিকের ক্রড ও কিছু এআই মডেলকে সভ্যতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করলেও পরে প্রতিষ্ঠানটিকে এআই খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি হিসেবে প্রশংসা করেন।

গবেষকদের এমন সতর্কবার্তা ও এআই নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা থেমে নেই। ফলে উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য সুফলের পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ