সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
৪:৩১ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬

স্তন ক্যানসারে এআইয়ের নতুন সাফল্য, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সম্ভাবনার দুয়ার

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের একদল গবেষক স্তন ক্যানসারের টিউমারের ভেতরে থাকা অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে নতুন সাফল্যের কথা জানিয়েছেন। গবেষণায় টিউমার কোষের ভেতরের ক্ষুদ্র কাঠামো সেন্ট্রোসোমের অস্বাভাবিকতার নির্দিষ্ট কিছু ধরন শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে ক্যানসারের আক্রমণাত্মক বৈশিষ্ট্য ও রোগীর চিকিৎসাগত ফলাফলের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণাটি গত ১৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান […]

স্তন ক্যানসারে এআইয়ের নতুন সাফল্য, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় সম্ভাবনার দুয়ার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের একদল গবেষক স্তন ক্যানসারের টিউমারের ভেতরে থাকা অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে নতুন সাফল্যের কথা জানিয়েছেন। গবেষণায় টিউমার কোষের ভেতরের ক্ষুদ্র কাঠামো সেন্ট্রোসোমের অস্বাভাবিকতার নির্দিষ্ট কিছু ধরন শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে ক্যানসারের আক্রমণাত্মক বৈশিষ্ট্য ও রোগীর চিকিৎসাগত ফলাফলের সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষণাটি গত ১৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার মূল বিষয় ছিল সেন্ট্রোসোম। কোষ বিভাজনের সময় জিনগত উপাদান সঠিকভাবে বণ্টন এবং কোষের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সংগঠিত রাখতে এই ক্ষুদ্র কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেন্ট্রোসোমে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কোষ বিভাজনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং জেনেটিক ত্রুটি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ক্যানসারের বিকাশের সম্পর্ক বিজ্ঞানীরা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জানেন।

তবে একটি টিউমারের বিপুলসংখ্যক কোষে থাকা সেন্ট্রোসোমের পরিবর্তন একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা দীর্ঘদিন ধরে জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে গবেষকেরা তৈরি করেছেন ‘সেনসেগনেট’ বা সেন্ট্রোসোম সেগমেন্টেশন নেটওয়ার্ক নামের একটি ওপেন-সোর্স এআই প্ল্যাটফর্ম।

এই প্রযুক্তি টিউমারের নমুনায় থাকা বিপুলসংখ্যক কোষ বিশ্লেষণ করে সেন্ট্রোসোমের সংখ্যা, আকার ও অবস্থানের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে পারে। ড. সালাহ এলিয়াসের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় ইউনিভার্সিটি হসপিটাল সাউদাম্পটনে চিকিৎসা নেওয়া ১২৭ জন স্তন ক্যানসার রোগীর নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। মোট ৯১১টি টিউমার নমুনায় থাকা ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সেন্ট্রোসোম পরীক্ষা করা হয়েছে।

এআইভিত্তিক বিশ্লেষণে সেন্ট্রোসোমের দুটি পৃথক ধরনের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে ক্যানসার কোষে স্বাভাবিকের তুলনায় সেন্ট্রোসোমের সংখ্যা বেড়ে যায়। অন্য ক্ষেত্রে সেন্ট্রোসোমের আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে ওঠে।

গবেষকেরা জানান, এতদিন এই দুই ধরনের পরিবর্তনকে অনেকটা একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো স্বাধীনভাবেও ঘটতে পারে। এমনকি একই টিউমারের বিভিন্ন অংশে এই অস্বাভাবিকতাগুলো আলাদাভাবে দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বড় আকারের সেন্ট্রোসোম বেশি থাকা টিউমারগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে উচ্চতর টিউমার গ্রেড, লিম্ফ নোডে ক্যানসারের উপস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কিছু জেনেটিক পরিবর্তন রয়েছে।

অন্যদিকে, টিউমারের কেন্দ্রীয় অংশে বড় আকারের সেন্ট্রোসোমের সংখ্যা কম থাকা রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া ড. সালাহ এলিয়াস বলেন, সেন্ট্রোসোমের অস্বাভাবিকতাকে শুধু একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে না দেখে এর বিভিন্ন জৈবিক অবস্থা, অবস্থান ও চিকিৎসাগত সম্পর্ক আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন বায়োমার্কার শনাক্ত করা এবং রোগীর জন্য আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা নির্ধারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, সেনসেগনেট এখনো নিয়মিত চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। ভবিষ্যতে টিউমারে সেন্ট্রোসোমের অস্বাভাবিকতার একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করে উচ্চঝুঁকির রোগী শনাক্ত করা এবং টিউমারের নির্দিষ্ট দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা বেছে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

সেন্ট্রোসোমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী কিছু প্রোটিনকে লক্ষ্য করে ওষুধ ইতোমধ্যে উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে বলেও গবেষকেরা জানিয়েছেন। ফলে ভবিষ্যতের চিকিৎসায় এই গবেষণার ফলাফল নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেনসেগনেট একটি ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন গবেষক ও প্যাথলজিস্ট এটি ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু স্তন ক্যানসার নয়, কিডনি, কোলন ও অ্যাপেন্ডিক্সের টিস্যুতেও এই প্রযুক্তির প্রয়োগ পরীক্ষামূলকভাবে করা হয়েছে।

গবেষকদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো সেনসেগনেটের বিশ্লেষণকে জিনোমিক, ট্রান্সক্রিপ্টোমিক ও প্রোটিওমিক তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করা। এর মাধ্যমে সেন্ট্রোসোমভিত্তিক বায়োমার্কার ভবিষ্যতে চিকিৎসা নির্বাচন এবং ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করতে কতটা কার্যকর হতে পারে, তা আরও স্পষ্টভাবে যাচাই করা যাবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ