ভারতের মধ্যপ্রদেশের দূষিত অজনার নদী একাই পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত। তার উদ্যোগ নজরে পড়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশ সংস্থা ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বোয়ান স্লাটের। পরে স্লাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। মধ্যপ্রদেশের রাজগড় […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দূষিত অজনার নদী একাই পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত। তার উদ্যোগ নজরে পড়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশ সংস্থা ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বোয়ান স্লাটের। পরে স্লাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান।
মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিয়াওরার বাসিন্দা সুরেন্দ্র একজন বিএসসি শিক্ষার্থী। বছরের শুরুতে অজনার নদীর দূষিত অংশ পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন তিনি। নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক, বোতল, শেওলা ও নানা ধরনের আবর্জনা নিজের হাতে সরিয়ে ফেলতে থাকেন। তার কাজের ভিডিও ও নদী পরিষ্কারের আগে-পরে দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে দূষণে জর্জরিত ছিল অজনার নদীর একটি অংশ। সেখানে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য জমে ছিল। পরিস্থিতি বদলাতে সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষা না করে সুরেন্দ্র নিজেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন।
প্রথম দিকে কয়েকজন বন্ধু তাকে সহযোগিতা করলেও পরে প্রায় একাই কাজ চালিয়ে যান তিনি। সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে নদীর ভেতর ও আশপাশ থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সরান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্নতার কাজে নিজের অর্থও ব্যয় করেছেন তিনি।
তার এই প্রচেষ্টার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রাসহ আরও অনেকে তার কাজের প্রশংসা করেন। পরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি নজর কাড়ে।
সুরেন্দ্রের নদী পরিষ্কারের কাজের একটি পোস্ট এক্সে নজরে আসে বোয়ান স্লাটের। তিনি সেখানে সরাসরি সুরেন্দ্রকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘Come work for us’—অর্থাৎ তাদের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান।
‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’ সমুদ্র ও নদীতে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে কাজ করে। সুরেন্দ্রের স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগ কীভাবে আন্তর্জাতিক একটি পরিবেশ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নজরে এসেছে, সেটিই এখন তার গল্পের সবচেয়ে আলোচিত দিক।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, এটি স্লাটের প্রকাশ্য চাকরির আমন্ত্রণ; সুরেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
একটি স্থানীয় উদ্যোগ থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি—সুরেন্দ্র সিং চৌধুরীর এই যাত্রা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের অংশগ্রহণের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।