যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়ার পর পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না। রোববার (২৩ আগস্ট) সামাজিক […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়ার পর পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
রোববার (২৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রেজাই আরও বলেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশ অংশ নিলে বা সহযোগিতা করলে সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের এই হুঁশিয়ারি এসেছে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘোষণার আগে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট নতুন উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সোমবার থেকে এই পদক্ষেপের কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।
নতুন মার্কিন পদক্ষেপের লক্ষ্য মূলত ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা এবং দেশটির অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক অংশীদার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপে ফেলা। এর মাধ্যমে তেহরানের বাকি থাকা বৈদেশিক বাণিজ্য ও আর্থিক সংযোগগুলোও সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে বেসেন্ট চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এমনিতেই তীব্র উত্তেজনা চলছে। ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারেও।
ইরানের অর্থনীতি নতুন করে চাপে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি আগে থেকেই দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এর সঙ্গে যুদ্ধের কারণে অবকাঠামোর ক্ষতি, বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
তবে তেহরানের কড়া বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ২৪ আগস্ট তেহরান সফর করেছেন। এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা এবং নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করার কথা উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তেহরান এর জবাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের চেষ্টা করে, তাহলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের মাত্রা কিছুটা কমলেও অর্থনৈতিক চাপ ও পাল্টা হুমকির কারণে সংকট নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এখন নজর থাকবে ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার পর তেহরান বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো উত্তেজনা কমাতে কতটা সফল হয়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স