আসন্ন নির্বাচনে ভোট চুরি, ব্যালট ছিনতাই কিংবা কেন্দ্র দখলের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, এ ধরনের অপচেষ্টা হলে তারা আর নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবেন না, বরং মাঠে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় […]
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন নির্বাচনে ভোট চুরি, ব্যালট ছিনতাই কিংবা কেন্দ্র দখলের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, এ ধরনের অপচেষ্টা হলে তারা আর নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবেন না, বরং মাঠে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও সারাদেশে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম প্রতিরোধে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, “এবার আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখব না কেউ ভোট চুরি করছে, কেউ ব্যালট নিয়ে চলে যাচ্ছে কিংবা কেউ কেন্দ্র দখল করে সিল মারছে। দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে আমাদের নেতা-কর্মীরা রাজপথে প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি বলেন, যে কেউ যেকোনো প্রতীকে ভোট দিতে চাইলে, সেটি নির্বিঘ্নে দিতে পারার পরিবেশ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য। এ জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এনসিপির কর্মীরা সর্বশেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াতের এক জেলা পর্যায়ের নেতার কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁদের জোটকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “যোগসাজশের মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে মিস ইনফরমেশন ও ডিস ইনফরমেশন ছড়িয়ে একটি বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য।”
ভোট কেনাবেচা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী বা তার কর্মীরা যদি ভোটারদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকেন, তাহলে তা সরাসরি অপরাধ। এ ধরনের অনিয়মে যে দলের প্রার্থীই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যেখানে তারা দুর্বল অবস্থানে আছে এবং হার নিশ্চিত মনে করছে, সেখানে তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার ঘটানো হচ্ছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কিছু গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, যৌথ বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শাপলা প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কঠোর ভাষায় সতর্কতা উচ্চারণ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু গণমাধ্যম আবারও আগের মতো একপেশে ভূমিকার দিকে ফিরে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের আগে যেভাবে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, এখনো সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পরে আমরা মিডিয়ার প্রতি যথেষ্ট ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখিয়েছি। কিন্তু এবার যারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করবে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা নোট রাখছি কারা বায়াসড কার্যক্রমে জড়িত। নির্বাচনের পর এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সঠিক ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হলে জনগণের পক্ষ থেকে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।