সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

প্রধান খবর
১:০৪ পিএম, ২৯ জুন ২০২৬

কাতারের দোহায় মার্কিন-ইরান বৈঠকের দাবি হোয়াইট হাউসের, নাকচ তেহরানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। তবে ওয়াশিংটনের দাবি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান, ফলে সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জেরেড কুশনার আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহা সফর করবেন। সেখানে তারা ইরানি কর্মকর্তাদের […]

কাতারের দোহায় মার্কিন-ইরান বৈঠকের দাবি হোয়াইট হাউসের, নাকচ তেহরানের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। তবে ওয়াশিংটনের দাবি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান, ফলে সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জেরেড কুশনার আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহা সফর করবেন। সেখানে তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন বলে দাবি করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেরোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু রাজনৈতিক পর্যায়ের বৈঠকই নয়, একইসঙ্গে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হওয়ারও কথা রয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য এই বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তবে হোয়াইট হাউসের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কাতারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই এবং এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিও নির্ধারিত হয়নি।

যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে কাতারের সঙ্গে পরামর্শ ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তার মতে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনা মোকাবিলায় দোহা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে এসব আলোচনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুকে কেন্দ্র করে হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে বিরোধ এখন দুই দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনও একেবারেই বিপরীতমুখী। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী প্রণালিটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের হাতেই থাকবে এবং এই অঞ্চলে যেকোনো নৌ চলাচল ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলপথের অংশ এবং এটি কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। ওয়াশিংটন মনে করে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অবাধ ও নিরাপদ রাখতে হবে।

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এমন পরিস্থিতিতে দোহায় সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিপরীতমুখী অবস্থান দুই দেশের মধ্যকার অবিশ্বাস ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনেরই নতুন প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার দরজা খোলা রাখা না গেলে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ