সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি তাদের আগের অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে গেছে। তার ভাষায়, দলটি “১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে পল্টি মেরেছে” এবং জুলাই সংস্কারের পক্ষে যে অবস্থান তারা নিয়েছিল, তা এখন আর বজায় নেই। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে রাকসু আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: […]
ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি তাদের আগের অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে গেছে। তার ভাষায়, দলটি “১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে পল্টি মেরেছে” এবং জুলাই সংস্কারের পক্ষে যে অবস্থান তারা নিয়েছিল, তা এখন আর বজায় নেই।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে রাকসু আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। তার অভিযোগ, যারা জুলাই সংস্কার থেকে দূরে সরে গেছে, তারা শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকেও বহু দূরে অবস্থান করছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এলেও এখন দলটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তার মতে, বর্তমান আচরণ দেখে মনে হয়, সংশ্লিষ্টরা সংবিধান সম্পর্কেও যথেষ্ট সচেতন নন।
৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ কারও ভয়ের কাছে আর নতি স্বীকার করে না। জনগণ দুর্নীতির পুরোনো ব্যবস্থা থেকে মুক্তি চেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গুমের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে, সেজন্য ‘গুম অধ্যাদেশ’কে আইনে রূপ দিতে হবে।
সংসদীয় আচরণ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য, বিদেশ থেকে এসে সংসদে নীরব থাকা কিংবা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পরবর্তীতে সিনেমা হলে উপস্থিত হওয়া জাতি ভালোভাবে নেয় না।
জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব নিয়েও বিএনপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিশির মনির। তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন, হাত বা পা হারিয়েছেন কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁদের খুঁজে পাওয়া কঠিন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু লিখলে নানা সংস্থা রাতেই হাজির হচ্ছে। তার ভাষায়, এই প্রবণতাই ফ্যাসিবাদের চিহ্ন।
আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রসমাজ যদি আবারও জেগে ওঠে, তাহলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।