সড়কে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ ও ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়ায় সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মন্ত্রীর এই বক্তব্য অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার শামিল এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডা. তাসনিম জারা লেখেন, মন্ত্রী […]
ছবি: সংগৃহীত
সড়কে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ ও ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়ায় সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মন্ত্রীর এই বক্তব্য অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার শামিল এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডা. তাসনিম জারা লেখেন, মন্ত্রী যাকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, বাস্তবে তা চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। একে সমঝোতার মোড়ক দেওয়া মানে হলো একটি অবৈধ প্রক্রিয়াকে বৈধতার ভাষা দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। সড়কে এই অলিখিত চাঁদার কারণে বাসভাড়া বৃদ্ধি পায় এবং পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অর্থ আদায়ের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচ বহন করেন যাত্রী ও সাধারণ ভোক্তারাই।
মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের আধিপত্যের বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে ডা. তাসনিম জারা প্রশ্ন তুলেন— তাহলে কি এই অর্থ আদায় রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তবে বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টে তিনি সড়কে অবৈধভাবে টাকা তোলা বন্ধ করার দাবি জানান। শ্রমিক বা মালিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থ প্রয়োজন হলে তা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে আদায় করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার এই তহবিলের পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করে জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, এই অর্থ মূলত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কল্যাণে নয়, বরং যাত্রী ও ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত ব্যয়।
শেষে ডা. তাসনিম জারা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সরকারের দায়িত্ব। অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জনগণকে হতাশ না করার আহ্বান জানান তিনি।