জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন ‘নং-১৩’ আঘাত হানার আশঙ্কায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ক্যাটাগরি-১ হিসেবে চিহ্নিত টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার […]
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন ‘নং-১৩’ আঘাত হানার আশঙ্কায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ক্যাটাগরি-১ হিসেবে চিহ্নিত টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঝড়টি কিউশু অঞ্চল ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মধ্যবর্তী দ্বীপমালার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
টাইফুনের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল সাগরের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাগোশিমা ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দার জন্য ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে জাপানের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা শুক্রবার তাদের নয়টি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
জেএমএ সতর্ক করে জানিয়েছে, ওকিনাওয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময়ও টাইফুনটি শক্তি ধরে রাখতে পারে। এতে এমন তীব্র বাতাস সৃষ্টি হতে পারে, যা ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে সংকীর্ণ এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য তৈরি হওয়া ‘লিনিয়ার রেইন ব্যান্ড’ এবং বজ্রঝড়ের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ঝড়টির প্রভাব ইতোমধ্যে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ কিউশুর বিভিন্ন এলাকায় পড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে কুমামোতো প্রিফেকচার বিশেষভাবে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। অঞ্চলটি গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ভূমিকম্পের পর এখনো প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
এর মধ্যে নতুন করে টাইফুনের প্রভাবে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ঝড়ের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাপান আবহাওয়া সংস্থা। ফলে টাইফুনের ঝুঁকির পাশাপাশি হিটস্ট্রোকের আশঙ্কাও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কতা অনুসরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: জাপান টুডে