নর্থ টেক্সাসের জোসেফিন শহরে প্রস্তাবিত ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টারের ‘এপিক সিটি’ প্রকল্প ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যে নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। গত শুক্রবার তিনি হাউস বিল ৪২১১-এ স্বাক্ষর করেন। ম্যাককিনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গভর্নর অ্যাবট বলেন, এই আইন আবাসন খাতে ধর্মীয় বৈষম্য প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এপিক সিটি শুধু মুসলিম […]
নর্থ টেক্সাসের জোসেফিন শহরে প্রস্তাবিত ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টারের ‘এপিক সিটি’ প্রকল্প ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যে নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। গত শুক্রবার তিনি হাউস বিল ৪২১১-এ স্বাক্ষর করেন।
ম্যাককিনিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গভর্নর অ্যাবট বলেন, এই আইন আবাসন খাতে ধর্মীয় বৈষম্য প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এপিক সিটি শুধু মুসলিম ক্রেতাদের জন্য জমি ও বাড়ি বিক্রি করছে এবং শরিয়াহ আইন মেনে লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।
অ্যাবট বলেন, “কোনো ধর্মীয় সংগঠন আবাসন বাজারে আলাদা অঞ্চল তৈরি করতে পারবে না। সব বিরোধ টেক্সাসের আইন ও আদালতের অধীনে নিষ্পত্তি হবে।”
নতুন আইনের অধীনে আবাসন প্রকল্পে জড়িত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রেতাদের জানাতে হবে, তারা মূলত করপোরেট সত্তা কমিউনিটি ক্যাপিটাল পার্টনার্স-এর শেয়ার কিনছেন, জমির মালিক হচ্ছেন না। বিনিয়োগ ফেরতযোগ্য নয় এবং শেয়ার সহজে বিক্রি করা যায় না।
রিপাবলিকান প্রতিনিধি ক্যান্ডি নোবেল, যিনি বিলটির রচয়িতা, বলেন, “এটি টেক্সাসের পথ নয়। এখানে গৃহস্বত্ব মানে স্বাধীনতা, যা আমরা সবার জন্য সুরক্ষিত রাখতে চাই।”
ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার বারবার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এপিক সিটি বৈষম্যমূলক নয়, অমুসলিমদের জন্যও উন্মুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) টেক্সাস শাখা গভর্নরের মন্তব্যকে বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন বলে সমালোচনা করেছে। কেয়ার টেক্সাসের নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা ক্যারল বলেন, “অ্যাবটের বক্তব্য মুসলিমবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে এবং টেক্সাসের মুসলিমদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।”
এপিক সিটির পরিকল্পনায় রয়েছে একটি নতুন মসজিদ, এক হাজারের বেশি আবাসন, কে-১২ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রবীণদের আবাসন, একটি কমিউনিটি কলেজ এবং ব্যবসা ও ক্রীড়া সুবিধা। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে।
ফেডারেল তদন্তে কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ না মিললেও একাধিক স্টেট সংস্থা এখনো প্রকল্পটির বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ মূলত ইসলামবিদ্বেষ থেকে চালিত।
টেক্সাসে এপিক সিটি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।