সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৪:২৯ পিএম, ৬ আগস্ট ২০২৬

ট্রাম্পের গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশ অবৈধ, ঐতিহাসিক রায় ভারতীয়-বংশোদ্ভূত বিচারকের

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করেছেন ভারতীয়-বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ অমিত মেহতা। তার এই রায়কে অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতির কারণে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল হয়ে পড়েছিল। গত ৩১ জুলাই ‘ডি মৌরা গোমেস বনাম রুবিও’ […]

ট্রাম্পের গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশ অবৈধ, ঐতিহাসিক রায় ভারতীয়-বংশোদ্ভূত বিচারকের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করেছেন ভারতীয়-বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ অমিত মেহতা। তার এই রায়কে অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতির কারণে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল হয়ে পড়েছিল।

গত ৩১ জুলাই ‘ডি মৌরা গোমেস বনাম রুবিও’ মামলার রায়ে বিচারক মেহতা বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যে নির্দেশনা জারি করেছিলেন, তা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (INA)-এ নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তার মতে, এই ধরনের নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতির উদ্দেশ্য ছিল তথাকথিত “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন। এই তালিকায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ভারতের নাম ছিল না।

মামলাটির আবেদনকারী ছিলেন ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন ডি মৌরা গোমেস। তিনি ইবি-৫ (EB-5) বিনিয়োগ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন। রায়ে বিচারক মেহতা বলেন, ভিসা আবেদন মূল্যায়নের ক্ষমতা একমাত্র কনস্যুলার কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত। কোনো নীতিগত নির্দেশনার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেই প্রক্রিয়ার ওপর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না।

আদালত সংশ্লিষ্ট নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বাদীর আবেদন নতুন করে এবং পৃথকভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত আপাতত কেবল মামলার বাদীর ক্ষেত্রেই সরাসরি কার্যকর হবে, তবে অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

এদিকে চলতি সপ্তাহেই আরেকটি আলোচিত মামলার রায় দিয়ে সংবাদ শিরোনামে আসেন বিচারক মেহতা। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী সংগঠন ‘ওথ কিপার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা স্টুয়ার্ট রোডসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা তিনি খারিজ করে দেন।

তবে আদেশে বিচারক স্পষ্ট করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের আবেদনের কারণেই তিনি মামলাগুলো খারিজ করতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এমন সিদ্ধান্ত ৬ জানুয়ারির সহিংস ঘটনার গুরুত্বকে খাটো করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ তদন্ত ও প্রচেষ্টাকে অবমূল্যায়ন করে। তার ভাষায়, ওই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ভিত্তিকেই নাড়া দিয়েছিল।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের পাটানে জন্ম নেওয়া অমিত পি. মেহতা মাত্র এক বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।

বাল্টিমোরের শহরতলিতে বেড়ে ওঠা মেহতা জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিস ডক্টর (JD) ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিচারক হওয়ার আগে তিনি ওয়াশিংটন ডিসি পাবলিক ডিফেন্ডার সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি হোয়াইট-কলার অপরাধ এবং জটিল বাণিজ্যিক বিরোধসংক্রান্ত মামলায় দক্ষ আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ