সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৪:৩৮ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করল খুনের আসামি, দাবি ৭৫ মিলিয়ন ডলার ও মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে হত্যাকাণ্ডের দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক অভিবাসী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি ৭৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ, প্রকাশ্যে ক্ষমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মামলাকারী ব্র্যান্ডন অর্টিজ-ভিটে বর্তমানে মিশিগানের একটি কারাগারে ৩৯ থেকে ১০২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২৪ সালের মার্চে গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস এলাকায় তার প্রেমিকা রুবি গার্সিয়াকে হত্যার দায়ে তিনি দোষী […]

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করল খুনের আসামি, দাবি ৭৫ মিলিয়ন ডলার ও মার্কিন নাগরিকত্ব

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে হত্যাকাণ্ডের দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক অভিবাসী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি ৭৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ, প্রকাশ্যে ক্ষমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মামলাকারী ব্র্যান্ডন অর্টিজ-ভিটে বর্তমানে মিশিগানের একটি কারাগারে ৩৯ থেকে ১০২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২৪ সালের মার্চে গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস এলাকায় তার প্রেমিকা রুবি গার্সিয়াকে হত্যার দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

আদালতে জমা দেওয়া হাতে লেখা আবেদনে অর্টিজ-ভিটে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল। তার দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী প্রচারণার একটি প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন, যার ফলে তিনি কারাগারে উপহাস ও অপমানের শিকার হন।

মামলায় ট্রাম্পের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের প্রিন্সিপাল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি স্টিভেন চেউংকেও বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রচারণায় তার ছবি ও মামলার তথ্য ব্যবহার করে তাকে জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

২০২৪ সালে গ্র্যান্ড র‌্যাপিডসে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্টিজ-ভিটের মামলার উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় তার নির্বাচনী প্রচারণাতেও অর্টিজ-ভিটের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

অর্টিজ-ভিটে আদালতে বলেন, তার অপরাধ ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে তাকে একটি প্রতীকী চরিত্রে পরিণত করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে হত্যাকাণ্ডের দায় তিনি গ্রহণ করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের আইনি পরিণতি মেনে নিয়েছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অর্টিজ-ভিটে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তার ডাকা (DACA) সুবিধার মেয়াদ ২০১৯ সালে শেষ হয়। ২০২০ সালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। পরে কীভাবে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, তা স্পষ্ট নয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাটির সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক বক্তব্যে সমালোচিত বা অপমানিত হওয়ার অভিযোগ সাধারণত ক্ষতিপূরণের জন্য যথেষ্ট আইনি ভিত্তি তৈরি করে না। এছাড়া দায়িত্বে থাকা বা দায়িত্ব পালনকালে প্রেসিডেন্টের কিছু আইনি সুরক্ষা এবং অন্যান্য সাংবিধানিক বিষয়ও মামলার পথে বড় বাধা হতে পারে।

অর্টিজ-ভিটে তার আবেদনে আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে আদালত এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। মামলার ভবিষ্যৎ পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ