চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আশরাফুল হক ডনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি তদন্ত সংস্থাটি। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত বুধবার ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাকে […]
ছবি: সংগৃহীত
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আশরাফুল হক ডনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি তদন্ত সংস্থাটি।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত বুধবার ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করে সিআইডি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে জমা দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে ডনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য ও আলামত যাচাই করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
তবে সিআইডির বক্তব্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ডনের এই কথিত সম্পৃক্ততার ধরন কী। তিনি কীভাবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কিংবা সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত সংস্থা এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।
সিআইডির মুখপাত্র ছুফি উল্লাহ ও মামলাটির তদন্তকারী ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজীরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তারা তদন্ত চলমান থাকার কথা বলেছেন। সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে কি না কিংবা অতীতে দেওয়া আত্মহত্যার তত্ত্বের সঙ্গে নতুন তদন্তের কোনো সাংঘর্ষিক তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে তারা সরাসরি মন্তব্য করেননি।
মামলাটি সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ ইউনিট তদন্ত করছে।
ডনের দ্রুত রিমান্ড শেষ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় অসন্তোষ জানিয়েছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। যুক্তরাজ্য থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি থাকা সত্ত্বেও কেন ডনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো না।
তার অভিযোগ, ডনকে ঘিরে রিমান্ডের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল লোক দেখানো। রহস্যের মূল তথ্য বের করতে প্রয়োজনে তাকে নীলা চৌধুরী ও তার ভাই আলমগীর কুমকুমের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া মামলার এজাহারে নাম থাকা ১১ জনের মধ্যে শুধু ডনকে গ্রেপ্তার করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নীলা চৌধুরী।
সিআইডির আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডন ও সালমান শাহ একাধিক সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন। মামলার এজাহারে থাকা পলাতক কয়েকজন আসামিকেও তিনি চেনেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
তবে মামলার মূল ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তার বক্তব্যে অসংগতি এবং তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু ডনের জবানবন্দির ওপর নির্ভর না করে সালমান শাহর মৃত্যুর আগে, ঘটনার সময় এবং পরবর্তী সময়ে ডনের আচরণ ও গতিবিধিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এসব তথ্য অন্যান্য আলামত, বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশ যাওয়ার সময় ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদনও আদালত নাকচ করেন।
পরে সিআইডি তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে রিমান্ড শুরু হয়। চার দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর ৯ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে সিআইডি।
তদন্ত সংস্থার ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। আদালত সেই আবেদন অনুমোদন করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা তদন্তে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানো হলেও পরিবার শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মায়ের রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পরদিন রমনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পনা ও পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছিল।
সিআইডির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।