বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ সফরকে অত্যন্ত সফল মিশন হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বিদায়ী সাক্ষাতে তিনি বিশেষভাবে এই প্রশংসা করেন। গোয়েন লুইস জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অধ্যাপক ইউনূসের অংশগ্রহণ কেবল বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেনি, পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের ওপর […]
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ সফরকে অত্যন্ত সফল মিশন হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বিদায়ী সাক্ষাতে তিনি বিশেষভাবে এই প্রশংসা করেন।
গোয়েন লুইস জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অধ্যাপক ইউনূসের অংশগ্রহণ কেবল বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেনি, পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের ওপর জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সম্মেলনে তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। উল্লেখযোগ্য হলো, এই সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে প্রধান রাজনৈতিক দলের ছয় নেতার অংশগ্রহণ, যা জাতীয় ঐক্যের মজবুত প্রতীক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এছাড়া, সাক্ষাতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। লুইস তার দায়িত্বকাল সম্পর্কে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার জীবনের অন্যতম গর্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ কাজের মাধ্যমে আমি দেশের জনগণের দৃঢ়তা ও উদারতা প্রত্যক্ষ করেছি, যা গভীর অনুপ্রেরণার উৎস।’
অধ্যাপক ইউনূসের সামাজিক উদ্ভাবন ও ন্যায়বিচারের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, মন্তব্য করেন লুইস। তার নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারণাকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোয়েন লুইসের দায়িত্বকালীন সময়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবকল্যাণ, পরিবেশগত সহনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা ও লিঙ্গ সমতার মতো পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে সফল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় উদ্বোধন এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিতে সাহায্যসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শ্রম খাতে সংস্কারমূলক উদ্যোগে জাতিসংঘের অবদান উল্লেখযোগ্য। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পরিবেশগত টেকসইতা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য সমন্বিত কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
গোয়েন লুইস বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন, যেমন ‘সবার জন্য আগাম সতর্কবার্তা’, ‘শিক্ষা রূপান্তর উদ্যোগ’ এবং ‘খাদ্য ব্যবস্থা সম্মেলন’। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আমাদের সমৃদ্ধ, জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যতের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
লুইস শেষ করেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি, লিঙ্গসমতা ও মানবাধিকারের মূল্যবোধ আমাদের সব কর্মকাণ্ডে সমানভাবে প্রতিফলিত হবে, যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে।’