দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ব্যাট হাতে যেন ইতিহাসের পাতাই নতুন করে লিখলেন তাওহীদ হৃদয়। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর থামেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হয়েছেন এই ব্যাটার। শুধু দেশের ক্রিকেটেই নয়, বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো […]
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ব্যাট হাতে যেন ইতিহাসের পাতাই নতুন করে লিখলেন তাওহীদ হৃদয়। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর থামেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হয়েছেন এই ব্যাটার।
শুধু দেশের ক্রিকেটেই নয়, বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিও এটি। হৃদয়ের এই দুর্দান্ত ইনিংসের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে।
পচেফস্ট্রুমে চার দিনের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দল প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল গড়ে ৫১২ রানের বড় সংগ্রহ।
জবাব দিতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ১৩৫ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেখান থেকেই দলের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয়।
ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করতে থাকেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে বের করে এনে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যান এমন এক উচ্চতায়, যেখানে এর আগে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার পৌঁছাতে পারেননি।
তৃতীয় দিন শেষে হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ২০৪ রানে। বুধবার শেষ দিনে ব্যাট হাতে নেমে একে একে পেরিয়ে যান আড়াই শ ও তিন শ রানের মাইলফলক।
ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরও থামেননি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকেই ইনিংস শেষ করেন তিনি।
এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হলেন হৃদয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ বা তার বেশি রান করা তৃতীয় ব্যাটারও তিনি।
হৃদয়ের আগে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ছিল তামিম ইকবালের দখলে।
২০২০ সালে মিরপুরে ইস্ট জোনের হয়ে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৩৪ রান করেছিলেন তামিম। এতদিন সেটিই ছিল কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ প্রথম শ্রেণির ইনিংস।
এর আগে ২০০৭ সালে ফতুল্লায় বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে সিলেট বিভাগের হয়ে অপরাজিত ৩১৩ রান করেছিলেন রকিবুল হাসান।
৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস দিয়ে এবার দুজনকেই পেছনে ফেললেন হৃদয়। ফলে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের নতুন রেকর্ড এখন তার দখলে।
বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ট্রিপল সেঞ্চুরি হয়েছে তিনটি। এর প্রথম দুটি এসেছিল রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে।
রকিবুলের ৩১৩ ও তামিমের ৩৩৪ রানের পর এবার সেই তালিকায় যোগ হলো হৃদয়ের ৩৫০। তবে তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইনিংসের মালিক এখন তিনিই।
আর এই কীর্তির বিশেষত্ব আরও বেশি, কারণ হৃদয়ের ৩৫০ এসেছে দেশের বাইরে, দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে।
হৃদয়ের অসাধারণ ইনিংসের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের জবাবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এতে প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ১২ ওভার ব্যাট করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৮ রান তুললে দুই দল ম্যাচটি ড্র মেনে নেয়।
তবে দুই ম্যাচের আনঅফিশিয়াল টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ৪১৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল।
দলীয় ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে না গেলেও ব্যক্তিগতভাবে হৃদয়ের এই ৩৫০ রানের ইনিংস দেশের ক্রিকেটে তৈরি করল এক নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বড় ইনিংসটির পাশে লেখা থাকবে তাওহীদ হৃদয়ের নাম।