সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১২:১৯ পিএম, ১ জুন ২০২৬

দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত, বাড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) দ্রুত কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ধারাবাহিকভাবে তেল ছাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে তেলের সরবরাহ ও মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। গত ২৮ মে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের […]

দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত, বাড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) দ্রুত কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ধারাবাহিকভাবে তেল ছাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে তেলের সরবরাহ ও মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

গত ২৮ মে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে তার কৌশলগত মজুত থেকে ব্যাপক হারে তেল ছাড়তে হচ্ছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, জো বাইডেন প্রশাসন রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য জাতীয় তেলভান্ডার খালি করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনও একইভাবে জরুরি মজুত ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসপিআরে থাকা তেলের পরিমাণ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই মজুত আরও দ্রুত কমে যেতে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রধান তেল বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, “এই মজুত একসময় পুনরায় পূরণ করতে হবে। ফলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হবে, যা তেলের দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।”

যুদ্ধ শুরুর পর কমেছে প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল

টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভস্থ গুহায় সংরক্ষিত এসপিআর বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ে। সে সময় মজুত ৬৩ কোটি ব্যারেলের বেশি থেকে কমে ৩৫ কোটির নিচে নেমে আসে।

বর্তমান ইরান সংকট শুরুর পর থেকে আবারও দ্রুত হারে মজুত কমছে। তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর এসপিআরের তেল মজুত প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল কমে বর্তমানে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

কেপলারের হিসাব বলছে, এপ্রিল ও মে মাসে এসপিআর থেকে ছাড়া তেলের প্রায় অর্ধেক বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

এ প্রসঙ্গে ম্যাট স্মিথ বলেন, “বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করছে।”

বাণিজ্যিক তেল মজুতেও চাপ

শুধু জরুরি মজুত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেলভান্ডারেও দ্রুত ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ওকলাহোমার কুশিং কেন্দ্র—যেখান থেকে ডব্লিউটিআই তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়—সেখানে গত সাত সপ্তাহে প্রায় ৮৫ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে।

বর্তমানে কুশিংয়ে মজুত নেমে এসেছে প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেলে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যক্রম সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সীমার খুব কাছাকাছি।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বৈশ্বিক পণ্যকৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, “পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যেখানে সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর মজুত বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যেতে পারে।”

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আলোচনা বাড়ছে

জরুরি ও বাণিজ্যিক—উভয় ধরনের তেল মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে তেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আপাতত এমন কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করলে যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে জ্বালানির দাম কমতে পারে। তবে এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং মার্কিন তেল উৎপাদক ও শোধনাগারগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ম্যাট স্মিথের মতে, “মজুত কমতে থাকলে বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই যুক্তরাষ্ট্রের তেল রপ্তানি কমে আসতে পারে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, যদি যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত তেল সরবরাহের সক্ষমতা হারায়, তাহলে বিশ্ববাজারের দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল কোথা থেকে সংগ্রহ করবে?”

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ