যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে এক বাংলাদেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জামি চৌধুরী নামে ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাকে জামিন দেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রাইভেট ডিটেকটিভ শক্তি গুপ্ত […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে এক বাংলাদেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জামি চৌধুরী নামে ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাকে জামিন দেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রাইভেট ডিটেকটিভ শক্তি গুপ্ত জানান, গত ১৬ আগস্ট জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৮৯-১৬ ১৭৫ স্ট্রিটের একটি পার্টি হলে জামি চৌধুরীর ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলা ওই অনুষ্ঠানে ডিজের সরঞ্জাম ও সেবা দেওয়ার জন্য অনুপ কুমার এষকে ১ হাজার ৫০০ ডলার পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল।
অনুপের অভিযোগ, অনুষ্ঠান শেষে তাকে মাত্র ৪০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি এতে আপত্তি জানালে পারিশ্রমিক নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জামি চৌধুরীসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন অনুপ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাকে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করা হয়। তার দাবি, হিন্দু পরিচয় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থনের কারণে তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি বিচারাধীন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় অনুপকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করার পাশাপাশি হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করার সময়ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
শক্তি গুপ্তের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯১১ নম্বরে কল পাওয়ার পর পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অনুপকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ঘাড়, কান ও পিঠে আঘাত লাগে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর নিউইয়র্কের স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আপসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনুপ তাতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, অন্যায়ভাবে মারধরের শিকার হওয়ার পর তিনি আপস নয়, ন্যায়বিচার চান। ডিজে হিসেবে কাজ করাই তার জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জামি চৌধুরীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও মামলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম