সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৭:৩২ অপরাহ্ন, ৫ আগস্ট ২০২৬

নিউইয়র্কে অবৈধ ই-বাইক বিক্রি ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ, নির্দেশনা ঘিরে বিতর্ক

নিউইয়র্ক সিটিতে অবৈধ ও অতিরিক্ত গতিসম্পন্ন ই-বাইক ও ই-স্কুটারের বিক্রি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। অনলাইনে এসব যান বিক্রির অভিযোগে ৪২টি খুচরা বিক্রেতাকে ‘সিজ অ্যান্ড ডিজিস্ট’ (Cease and Desist) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এই উদ্যোগকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সড়ক নিরাপত্তা কর্মীরা। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী ১৮ আগস্টের […]

নিউইয়র্কে অবৈধ ই-বাইক বিক্রি ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ, নির্দেশনা ঘিরে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক সিটিতে অবৈধ ও অতিরিক্ত গতিসম্পন্ন ই-বাইক ও ই-স্কুটারের বিক্রি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। অনলাইনে এসব যান বিক্রির অভিযোগে ৪২টি খুচরা বিক্রেতাকে ‘সিজ অ্যান্ড ডিজিস্ট’ (Cease and Desist) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এই উদ্যোগকে অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সড়ক নিরাপত্তা কর্মীরা।

মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে নির্দেশনা কার্যকর না করলে প্রতিটি অবৈধ বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় ১০০ পাউন্ডের বেশি ওজনের, ঘণ্টায় ২০ মাইলের বেশি গতিতে চলতে সক্ষম স্কুটার, ৭৫০ ওয়াটের বেশি মোটরযুক্ত ই-বাইক এবং বৈধ নিবন্ধনবিহীন মোপেডের বিক্রি বন্ধে জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ শুধু ভবিষ্যতের বিক্রি ঠেকানোর দিকে নজর দিয়েছে; ইতোমধ্যে শহরের রাস্তায় চলাচল করা অবৈধ ই-বাইক ও স্কুটারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া এসব যানবাহনের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের প্রস্তাবেও সমর্থন দেননি মেয়র।

মেয়র মামদানি বলেন, নিবন্ধন বাধ্যতামক করলেই যে সড়ক নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, এমনটি তিনি মনে করেন না। তার মতে, বর্তমান পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ যানবাহনের বাজার নিয়ন্ত্রণ করাই এখন অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে এনওয়াইসি ই-ভেহিকল সেফটি অ্যালায়েন্স এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শহরে অবৈধ ই-বাইকের কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলেও প্রশাসন বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সিটি হলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর ই-বাইক চালকদের মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি ঘটনার সঙ্গে অবৈধ যান জড়িত ছিল। এছাড়া এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাইক্রোমোবিলিটি দুর্ঘটনাজনিত গুরুতর আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সম্প্রতি লোয়ার ম্যানহাটনে একটি অবৈধ ই-বাইক দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। এছাড়া গত মাসে সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইকের ধাক্কায় এক জগার গুরুতর আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ কোমায় ছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে সিটি কাউন্সিলের সদস্যরাও বিদ্যমান আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, শুধু নতুন বিক্রি নিয়ন্ত্রণ নয়, রাস্তায় চলমান অবৈধ ই-বাইক অপসারণেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ