নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে আবারও বন্দুক হামলার শিকার হলেন বাংলাদেশি অভিবাসী রাইডশেয়ার চালক মোহাম্মদ আমিন। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দায়িত্ব পালনরত চালকদের ওপর এটি দ্বিতীয় গুলির ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। শুক্রবার ভোর চারটার দিকে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকায় এক যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর আমিনের গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল ডেলিভারি ভ্যানের সামান্য সংঘর্ষ হয়। পুলিশ সূত্রে জানা […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে আবারও বন্দুক হামলার শিকার হলেন বাংলাদেশি অভিবাসী রাইডশেয়ার চালক মোহাম্মদ আমিন। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দায়িত্ব পালনরত চালকদের ওপর এটি দ্বিতীয় গুলির ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
শুক্রবার ভোর চারটার দিকে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকায় এক যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর আমিনের গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল ডেলিভারি ভ্যানের সামান্য সংঘর্ষ হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই যাত্রীর ভাই ও মা ঘটনাস্থলে এসে অপর চালকের সঙ্গে তর্কে জড়ান। কিছুক্ষণ পর পাশের হুইটম্যান হাউজেস থেকে আরেক ব্যক্তি এসে আমিনের গাড়ির জানালায় কড়া নেড়ে খুব কাছ থেকে তার মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও বলেন, আমিন কোনো ঝগড়ায় জড়াননি। তিনি শুধু পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষায়, ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকার কারণেই এই হামলার শিকার হন চালক।
ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, কুইন্সের বাসিন্দা বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ আমিন গত ১৬ বছর ধরে নিউইয়র্কে গাড়ি চালিয়ে স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ করে আসছেন। তার পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।
ঘটনার পর ফার্নান্দো মাতেও আবারও দাবি জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি ট্যাক্সি ও টিএলসি গাড়িতে ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হোক, যাতে হামলার ঘটনায় দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ফেডারেশনের দাবি, গত দুই সপ্তাহে দায়িত্ব পালনরত চালকদের ওপর এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলা। কয়েকদিন আগেই ব্রুকলিনে পাকিস্তানি অভিবাসী চালক ড্যানিশ সারওয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে প্যারালাইজড হন। পরপর দুটি হামলা আবারও নিউইয়র্কের রাস্তায় জীবিকা নির্বাহ করা রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।