সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৩:০৬ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে এক মাসে আইসের ২,১৯৭ গ্রেফতার, অভিযান ঘিরে প্রশ্ন

নিউইয়র্কে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যেই এক মাসে ২ হাজার ১৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) পরিচালিত এসব অভিযান নিয়ে অবশ্য প্রশ্নও উঠেছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের এ তথ্য জানান হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। একই সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি […]

নিউইয়র্কে এক মাসে আইসের ২,১৯৭ গ্রেফতার, অভিযান ঘিরে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্কে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যেই এক মাসে ২ হাজার ১৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) পরিচালিত এসব অভিযান নিয়ে অবশ্য প্রশ্নও উঠেছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের এ তথ্য জানান হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। একই সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সমালোচনাও করেন তিনি।

এক মাসে ২ হাজার ১৯৭ গ্রেফতার

আইসের নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক কেন জেনালো জানান, গত ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও হাডসন ভ্যালি এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

জেনালোর দাবি, অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ২ হাজার ১৯৭ জনই অপরাধী। তাঁর ভাষায়, অভিযানটি ছিল ‘নির্ভুল ও কার্যকর’ এবং বিষয়টি তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মুলিনের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন সুর পাওয়া যায়। তিনি বলেননি যে গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি ‘সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধী’। তাঁর দাবি, এসব ব্যক্তি বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

গ্রেফতার নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আইসের অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সবাই অপরাধী—এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন আদালত আইসের হাতে গ্রেফতার হওয়া এমন অনেক ব্যক্তিকে মুক্তির সুযোগ দিয়েছেন, যাদের কারও সুরক্ষিত অভিবাসন মর্যাদা ছিল অথবা যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।

আইসের নিজস্ব তথ্যেও দেখা যায়, বর্তমানে সংস্থাটির হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশের অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

নিউইয়র্কে আইসের তৎপরতা বাড়ার অভিযোগ

নিউইয়র্কে আইসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা সীমিত করার নতুন আইন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুলিন। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর বর্ডার জার টম হোম্যান নিউইয়র্ক সিটিতে আইসের অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

এর পর থেকেই বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন দাবি করে আসছে, নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় আইসের তৎপরতা বেড়েছে। কুইন্স ও ব্রুকলিনের বিভিন্ন এলাকাতেও এমন অভিযান পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

হোকুলের পাল্টা বক্তব্য

মঙ্গলবার সকালে মুলিনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল।

আইসের ২ হাজার ১৯৭ জনকে গ্রেফতারের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে হোকুল বলেন, গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনে অপরাধ করেছেন—এমনটি বলা যায় না।

তাঁর ভাষ্য, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সীমান্ত পার হওয়াকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে। নিউইয়র্কবাসীর উদ্দেশে হোকুল সতর্ক করে বলেন, “এই দাবিতে বিশ্বাস করবেন না।”

নিউইয়র্কে অভিবাসনবিষয়ক এনফোর্সমেন্ট নিয়ে ফেডারেল সরকারের কঠোর অবস্থান এবং অঙ্গরাজ্য সরকারের ভিন্ন অবস্থানের কারণে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ