যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে বিনামূল্যে চাকরির দক্ষতা, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত দুটি বড় যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণরা শুধু কাজের অভিজ্ঞতাই অর্জন করছে না, বরং বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে বিনামূল্যে চাকরির দক্ষতা, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত দুটি বড় যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণরা শুধু কাজের অভিজ্ঞতাই অর্জন করছে না, বরং বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ পাওয়া এবং পড়াশোনায় সহায়তাও পাচ্ছে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ পাচ্ছে।
ব্রঙ্কসের একটি প্রতিষ্ঠানে ১৪ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল পিটার্স এমন একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছে। তার মতে, স্কুলে যা শেখা সম্ভব, এই কর্মসূচিতে তার চেয়েও বেশি কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে।
পিটার্স জানায়, আগে অভিনয়শিল্পী বা গায়ক হওয়ার কথা ভাবলেও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে তার আগ্রহ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
গ্যাব্রিয়েল পিটার্স নিউইয়র্কের গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। প্রতি বছর প্রায় এক লাখ তরুণ এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ছয় সপ্তাহের এই কর্মসূচির আওতায় পিটার্স একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হিপহপ জাদুঘরের যৌথ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পায়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বিভিন্ন বক্তার কাছ থেকেও অভিজ্ঞতা শোনে সে। সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করা পিটার্স প্রযুক্তি ও সংগীতকে কীভাবে একসঙ্গে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করে।
এই অভিজ্ঞতার পর হিপহপ জাদুঘরে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সুযোগও পায় পিটার্স।
শহরের যুব ও সম্প্রদায় উন্নয়ন বিভাগের অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণরা অংশ নিতে পারে। আয়োজকদের মতে, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেকেই পরবর্তী সময়ে পারিশ্রমিকের চাকরির সুযোগ পেয়ে থাকে।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখানো হচ্ছে। ক্রোটোনা পার্ক ইস্ট এলাকার শিশুদের শিল্প ও বিজ্ঞান কর্মশালাও এসব অংশীদার প্রতিষ্ঠানের একটি।
কর্মসূচির পরিচালক জানান, শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করা, কর্মক্ষেত্রে আচরণ এবং নিজেদের অধিকার ও প্রয়োজন সম্পর্কে কথা বলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানো হয়। এসব দক্ষতা শুধু চাকরিজীবনেই নয়, পরবর্তী জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কাজে আসে।
নিউইয়র্কের আরেকটি কর্মসূচি ‘লার্ন অ্যান্ড আর্ন’-এ প্রায় ১ হাজার ১০০ জন উচ্চবিদ্যালয়ের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ের পাশাপাশি পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়েও এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
যুব কর্মশক্তি উন্নয়ন কর্মসূচির কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে এ ধরনের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা চাকরি করতে আগ্রহী, তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত বলেও তারা মনে করেন।
এসব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির আগে যোগ্যতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করছে। আয়োজকদের মতে, বর্তমানে কলেজে ভর্তির আবেদনও অনেকটা চাকরির আবেদনের মতো হয়ে উঠেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্রে তুলে ধরার মতো বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচিগুলোর অন্যতম বড় সাফল্য হলো শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিবর্তন। অনেক শিক্ষার্থী শুরুতে লাজুক ও আত্মবিশ্বাসহীন থাকলেও কর্মসূচি শেষ করার সময় নিজেদের সম্পর্কে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
নিউইয়র্কের সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উভয় কর্মসূচিই বিনামূল্যে উন্মুক্ত। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণরা শুধু পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না, বরং ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং কর্মজীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার বাস্তব সুযোগও পাচ্ছে।