যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন জেসুস অ্যাকোস্টাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শহরজুড়ে কয়েক দিন ধরে চলা অভিযানের পর ৩১ বছর বয়সী অ্যাকোস্টাকে আটক করা হয়েছে। ব্রুকলিনের একটি রেস্তোরাঁয় প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইউসুফকে হত্যা এবং ব্রঙ্কসের একটি দোকানে তেভন শুলারকে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন জেসুস অ্যাকোস্টাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শহরজুড়ে কয়েক দিন ধরে চলা অভিযানের পর ৩১ বছর বয়সী অ্যাকোস্টাকে আটক করা হয়েছে।
ব্রুকলিনের একটি রেস্তোরাঁয় প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইউসুফকে হত্যা এবং ব্রঙ্কসের একটি দোকানে তেভন শুলারকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ অ্যাকোস্টাকে খুঁজছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনা ঘটে গত রোববার ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ রেস্তোরাঁয়। সেখানে আকস্মিক সশস্ত্র হামলায় প্রথমে মোহাম্মদ রাসেল নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির পায়ে গুলি করা হয়। পরে তার বন্ধু ও সহকর্মী ৪৪ বছর বয়সী মো. ইউসুফের মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইউসুফকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইউসুফ দুই কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রুকলিনের ওই ঘটনার মাত্র দুদিন পর মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর ব্রঙ্কসের মেলরোজ এলাকায় ‘১৪৯ গ্রিল’ নামের একটি দোকানে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হঠাৎ বন্দুক বের করে ৩৩ বছর বয়সী তেভন শুলারের বুকে গুলি করেন। এরপর গুলির শব্দে ক্রেতা ও কর্মচারীরা আতঙ্কে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটে গেলে হামলাকারী কাউন্টারের পেছনে গিয়ে ক্যাশবাক্স থেকে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত শুলারকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরপর ঘটে যাওয়া দুই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুই ঘটনাতেই একই ব্যক্তি জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হন এবং জেসুস অ্যাকোস্টাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকোস্টার দীর্ঘ অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সশস্ত্র ডাকাতির মাধ্যমে তার অপরাধজীবনের শুরু হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। এর আগে তাকে ১৩ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সাবওয়ে স্টেশনে এক ব্যক্তিকে গুলি করার অপরাধে অ্যাকোস্টা ১০ বছর কারাভোগ করেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও তিনি পুলিশের নজরে আসেন।
তাকে ধরিয়ে দিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পাশাপাশি ‘ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা’ থেকে আরও ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশের টানা অভিযানের পর শনিবার অ্যাকোস্টাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকে ঠিক কোথা থেকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি এনওয়াইপিডি।
বাংলাদেশি প্রবাসী মো. ইউসুফসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনায় অ্যাকোস্টার গ্রেপ্তার নিউইয়র্কে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।