সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৩:৩৪ পিএম, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে মামদানির ‘২০০ ইনফ্লুয়েন্সার বাহিনী’ নিয়ে বিতর্ক, ট্যাক্সের অর্থে প্রচারণার অভিযোগ

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যে এখন বড় শক্তি, তা নতুন কিছু নয়। তবে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনকে ঘিরে এবার যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি একটু ভিন্ন। অভিযোগ, নগর প্রশাসনের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রায় ২০০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক। এই ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছে নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন বার্তা, আলোচনার […]

নিউইয়র্কে মামদানির ‘২০০ ইনফ্লুয়েন্সার বাহিনী’ নিয়ে বিতর্ক, ট্যাক্সের অর্থে প্রচারণার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যে এখন বড় শক্তি, তা নতুন কিছু নয়। তবে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনকে ঘিরে এবার যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি একটু ভিন্ন। অভিযোগ, নগর প্রশাসনের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রায় ২০০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক।

এই ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছে নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন বার্তা, আলোচনার বিষয় ও ভিডিও ক্লিপ। এরপর সেসব কনটেন্ট নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন তারা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই সরকারি তথ্য প্রচারের নতুন কৌশল, নাকি এর আড়ালে চলছে মেয়র মামদানির প্রশাসনের পক্ষে পরিকল্পিত প্রচারণা?

কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউয়ের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে করদাতাদের অর্থের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং সরকারি যোগাযোগে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ Signal ব্যবহারের বিষয়টি।

নির্বাচনী প্রচারণা থেকে প্রশাসনের সঙ্গে নতুন যোগাযোগ

এই গল্পের শুরু অবশ্য মামদানি মেয়র হওয়ার পর নয়। ‘Creators4Zohran’ নামে একটি ইনফ্লুয়েন্সার গ্রুপ গত বছরের মেয়র নির্বাচনের প্রচারণায় তার পক্ষে কাজ করেছিল।

নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই নেটওয়ার্কের একটি অংশকে প্রশাসনের বার্তা প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে ‘NYC Creators Announcements’ নামে একটি Signal গ্রুপে দুই শতাধিক ইনফ্লুয়েন্সার রয়েছেন বলে জানা গেছে। গ্রুপটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন মেয়রের অফিস অব নিউ মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল কমিউনিকেশনের পরিচালক এমিলিয়া রোল্যান্ড ও তার দল।

গ্রুপের সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন আপডেট, বক্তব্যের মূল পয়েন্ট এবং ভিডিও ক্লিপ পান। পাশাপাশি তাদের সরকারি অনুষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের সুযোগও দেওয়া হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

শুধু পোস্ট নয়, নির্দিষ্ট প্রচারণায় অর্থও?

বিতর্কের সবচেয়ে বড় জায়গা সম্ভবত এখানেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনফ্লুয়েন্সাররা মেয়রের অফিসের হয়ে তাদের প্রতিটি পোস্টের জন্য সরাসরি অর্থ পান—এমন দাবি করা হয়নি। তবে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি প্রচারণা বা বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে কয়েকজন ইনফ্লুয়েন্সারকে অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও কিছু প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রচারণায় ইনফ্লুয়েন্সারদের পারিশ্রমিক কয়েক হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই অর্থ সরাসরি সিটি প্রশাসন থেকে ইনফ্লুয়েন্সারদের হাতে যাচ্ছে কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন ও মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।

এ কারণে নিউইয়র্কের করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নিউইয়র্কের বাইরের ইনফ্লুয়েন্সারও কেন?

আরেকটি বিষয় নজর কেড়েছে ইনফ্লুয়েন্সারদের পরিচয় নিয়ে।

অনুসন্ধানে এমন কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কথা উঠে এসেছে, যারা নিউইয়র্কের বাসিন্দা নন। তাদের মধ্যে আলি ও’ব্রায়েনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মামদানির প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। অনলাইনে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তার বসবাস কানেকটিকাটে।

এ ছাড়া ‘bananadotgov’ নামে পরিচিত একজন ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কথাও এসেছে প্রতিবেদনে। তার অবস্থান ওহাইওর কলম্বাসে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তারা সরাসরি ওই Signal গ্রুপের সদস্য কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু Creators4Zohran-এর বিভিন্ন পোস্টে তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Signal অ্যাপ নিয়ে এত প্রশ্ন কেন?

ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য Signal ব্যবহারের বিষয়টিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

Signal একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ। সেখানে বার্তা আদান-প্রদান করা যায় এবং ব্যবহারকারীরা চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর মেসেজ মুছে যাওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।

এ কারণেই সরকারি কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত যোগাযোগ কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারি কাজসংক্রান্ত যোগাযোগ ও নথি সংরক্ষণের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর আগে সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর প্রশাসনের সময়ও সরকারি কর্মকর্তাদের Signal ব্যবহারের বিষয়টি বিতর্ক তৈরি করেছিল। ফলে মামদানি প্রশাসনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

প্রশ্নের মুখে পড়ে কী বললেন মামদানি?

Signal গ্রুপ এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মামদানি প্রথমে বিষয়টির আইনি দিক নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে মানুষের কাছে প্রশাসনের তথ্য পৌঁছে দেওয়া মূলত অন্য গণমাধ্যমে তথ্য প্রচারের মতোই।

তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, প্রশাসনকে অবশ্যই সরকারি আইন ও নথি সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

মামদানি বলেন, তার প্রশাসন সরকারি রেকর্ড সংরক্ষণসহ সব ধরনের আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণের চেষ্টা করবে। কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে সেটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্বচ্ছতা নিয়ে বাড়ছে চাপ

সরকারি বার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার—এটি এখন বিশ্বের অনেক প্রশাসনের কাছেই স্বাভাবিক যোগাযোগ কৌশল। মামদানি প্রশাসনের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু সমালোচনার জায়গাটি অন্যত্র। ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে সরকারি প্রচারণায় কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, কারা সেই অর্থ পাচ্ছেন, তারা কী ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ করছেন এবং সরকারি যোগাযোগের রেকর্ড কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পুরোপুরি সামনে আসেনি।

ফলে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ‘২০০ ইনফ্লুয়েন্সার’ নেটওয়ার্ক এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে করদাতাদের অর্থ, সরকারি প্রচারণা, Signal অ্যাপের ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং সরকারি নথি সংরক্ষণের আইন—আর সেখানেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ