বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সাবেক আমির, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী–এর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন দলটির বর্তমান আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিজামীর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশকে একটি “ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র” হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান […]
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সাবেক আমির, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী–এর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন দলটির বর্তমান আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিজামীর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশকে একটি “ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র” হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয় মাওলানা নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বার্ষিকী উপলক্ষে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাওলানা নিজামী ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। তিনি তাকে “প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন”, “দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ” এবং “আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সততা, বিনয়, প্রজ্ঞা, নেতৃত্বগুণ ও উদারতার কারণে তিনি বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই নিজামী ইসলামী আদর্শ প্রচার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন বলে দাবি করেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে নিজামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, নিজামী ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে নিজ এলাকা থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তার বক্তব্যকে তিনি “গঠনমূলক” ও “দিকনির্দেশনামূলক” বলে উল্লেখ করেন। ইসলামী শিক্ষার প্রসারে, বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তার অবদানও স্মরণ করেন তিনি।
জামায়াত আমির দাবি করেন, কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজামী সততা ও দক্ষতার পরিচয় দেন এবং তার নেতৃত্বে শিল্পখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজামীর গ্রহণযোগ্যতা ছিল এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক জরিপে তার নাম প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বদের তালিকায় স্থান পেয়েছিল।
বিবৃতিতে নিজামীর লেখালেখি ও দাওয়াতি কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, তার রচিত বই ও বিভিন্ন বক্তব্য ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় মাওলানা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং ২০১৬ সালের ১০ মে রাত ১২টা ১০ মিনিটে সেই দণ্ড কার্যকর করা হয়। তিনি নিজামীকে “শহীদ” হিসেবে উল্লেখ করে তার জন্য দোয়া করেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।