জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোন দল কতটি আসন পাবে—তা আগেভাগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছিল, সেই ভোটগুলো চুরি করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আরব আমিরাত থেকে […]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোন দল কতটি আসন পাবে—তা আগেভাগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছিল, সেই ভোটগুলো চুরি করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আরব আমিরাত থেকে কারামুক্ত হয়ে ফেরা ২৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে সংবর্ধনা দিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, একজন ৯০ বছরের বৃদ্ধা সাভার থেকে কষ্ট করে ভোট দিতে এসেছিলেন, অথচ কথা বলার শক্তিও তাঁর ছিল না। একজন ক্যান্সার রোগীও ভোট দিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু এসব মানুষের কষ্টের ভোট শেষ পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব আসনে এনসিপি জয় পেয়েছে, সেখানে মূল ভূমিকা রেখেছেন প্রবাসী ভোটাররা। তারা বিপুল উৎসাহে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে এবং ১১ দলীয় জোটকে ভোট দিয়েছেন। প্রবাসীদের এই অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের এই ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। দেশের সংকটকালে প্রবাসীরাই সবসময় এগিয়ে এসেছে, গণ-অভ্যুত্থানেও তাদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির জন্য দায়ীদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে কৃত্রিম সৌহার্দ্য দেখানো হচ্ছে। বিরোধী নেতাদের বাসায় যাওয়া–আসা শুরু হয়েছে। কিন্তু এসবের আগে জনগণের কাছে যাওয়া এবং তাদের কাছে জবাবদিহি করাই সবচেয়ে জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যাঁরা এই নির্বাচন পরিচালনা করেছেন, তাঁরা অনেক চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে সংসদে পৌঁছে দিয়েছেন। এসব ব্যক্তিকে যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যতটুকু হয়েছে, ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে শোনা যাচ্ছে কেউ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, কেউ গৃহায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিতে তদবির করছেন। তিনি বলেন, ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গিয়ে আবার লুটপাটের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, পুরো রমজান মাসজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে এনসিপি।