নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তিনি এই অর্থকে ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি কী হবে এবং এর জন্য […]
ছবি: সংগৃহীত
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তিনি এই অর্থকে ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি কী হবে এবং এর জন্য কী ধরনের আইনি কাঠামো প্রয়োজন হবে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক থাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আনুমানিক ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে তা বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি।
প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের প্রাইমটাইম ভাষণে ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দুই বছরকে ‘ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দুই বছর’ হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নিজের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মধ্যেও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে তার রাজনৈতিক বক্তব্যে ভোটের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে ট্রাম্পের এই আর্থিক সুবিধার ঘোষণা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেওয়া হলে দেশকে আবার ঘুরে দাঁড় করাতে পরবর্তী এক দশক সময় লেগে যেতে পারে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে সামনে আনা হচ্ছে।
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের এই ঘোষণার বাস্তবায়ন হলে এর অর্থনৈতিক প্রভাবও বড় হবে। তবে এর অর্থায়ন, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং অর্থ বিতরণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত না আসা পর্যন্ত পরিকল্পনাটির বাস্তব রূপ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।