সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৮:৪৬ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের, নিশানায় কাতার

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে কয়েকটি সংগঠনকে অর্থ দেওয়ার পেছনে কাতারের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। এ ঘটনায় বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত করছে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। তবে কাতার এসব সংগঠনকে অর্থ দিয়েছে—এমন অভিযোগের পক্ষে এখনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা […]

নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের, নিশানায় কাতার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে কয়েকটি সংগঠনকে অর্থ দেওয়ার পেছনে কাতারের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। এ ঘটনায় বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত করছে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত।

তবে কাতার এসব সংগঠনকে অর্থ দিয়েছে—এমন অভিযোগের পক্ষে এখনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল লিকুদ পার্টি। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ সমর্থনে কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিন বেতের কাছে পৌঁছানো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ তদন্ত শুরু হয়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গের কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগে তদন্ত

ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব নাগরিকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার কাজে যুক্ত কয়েকটি সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। লিকুদ পার্টির ধারণা, এসব সংগঠনের কাছে পাঠানো অর্থের উৎস কাতার।

তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে অর্থ পাঠানোর কথিত পদ্ধতির সঙ্গে অতীতে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু পদ্ধতির মিল থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের মিল অর্থের উৎস বা কোনো অপরাধের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি অর্থায়ন এবং বিদেশি পক্ষের মাধ্যমে নির্বাচনে ঘুষ বা অবৈধ প্রভাব বিস্তারের সন্দেহ খতিয়ে দেখতে শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ।

তদন্তের নির্দেশ দেওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। অর্থের প্রকৃত উৎস, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

ভোটের ফল চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিয়েছিল লিকুদ?

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের আগেই আরব অধ্যুষিত এলাকার নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছিল লিকুদ পার্টি।

নেতানিয়াহুর দল নির্বাচনে জয়ী না হলে নির্বাচন ‘চুরি’ হওয়ার অভিযোগ তুলতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। এ জন্য আগেভাগেই বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের দাবি প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এর আগে লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ভোট চুরির অভিযোগের পক্ষে সমর্থনযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে নতুন তদন্তের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে এসেছে। কাতারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং নির্বাচনে বিদেশি কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ছিল কি না, তা তদন্তের ফলের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, চ্যানেল ১২ ও অন্যান্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ