প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি এবং প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা দুটি মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর […]
ছবি: সংগৃহীত
প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি এবং প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা দুটি মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর চার আসামি হলেন ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, পরিচালক ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল হক। তাবারেজ খান ভারতীয় নাগরিক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে মামলা দুটি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির পর দেশীয় ও আমদানীকৃত ফলমূল এবং সবজি সরবরাহ শুরু করেন।
বাদীর দাবি, ব্যবসার শুরুর দিকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তার অভিযোগ, ১ লাখ টাকার পণ্য কেনার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংকে কখনো মাত্র ১ টাকা, আবার কখনো ১০০ টাকার মতো নগণ্য অর্থ জমা দেওয়া হতো।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার করে এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ স্লিপ তৈরি করা হতো। এসব নথির মাধ্যমে পণ্য ফেরত দেখানোর অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রাখা হয়। এভাবে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মীদের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলাগুলো মূলত একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিহাব মাহমুদ বশির নিজের দায় এড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধমূলক কৌশল হিসেবে এসব মামলা করেছেন।
তারা আরও দাবি করেছে, একই থানার পুলিশ চারটি মামলারই তদন্ত করেছে। তদন্ত শেষে দেওয়া দুটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য থেকে অভিযোগকারী পক্ষের কাছে ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা থাকার বিষয়টিও প্রতীয়মান হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, একটি আইন মেনে চলা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশ দেশের প্রচলিত আইন, বিচার ব্যবস্থা এবং সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। চলমান বিরোধের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সঠিক বিচার পাওয়া যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।
মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক