সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় চোরাই তারের ক্রেতা হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া মো. মাহাবুব হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত পুলিশের আবেদনের পর এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে মাহাবুব হাসানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার […]
ছবি: সংগৃহীত
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় চোরাই তারের ক্রেতা হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া মো. মাহাবুব হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত পুলিশের আবেদনের পর এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে মাহাবুব হাসানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইনজামুল হোসেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ মে সকাল ১০টা থেকে ১ জুন সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশ সচিবালয়ের পুরোনো ভবন ১, ২ ও ৩-এর ছাদ থেকে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) লাল টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরি করা হয়। চুরি হওয়া সরকারি কেবলের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১১০ মিটার এবং এর বাজারমূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
ঘটনার পর বিটিসিএলের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবীর শাহবাগ থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৪ জুন সচিবালয় এলাকা থেকে আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। পরদিন আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন চন্দ্র চুরির কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, চুরি করা কেবল থেকে তামা বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে অবস্থিত একটি ভাঙারির দোকানে বিক্রি করেছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, চুরি হওয়া তামার তার প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছিল।
রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই তামার মূল ক্রেতা হিসেবে মাহাবুব হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুব চোরাই তার কেনার বিষয়টি স্বীকার করলেও বর্তমানে সেগুলো কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিচ্ছেন না।
পুলিশের দাবি, চুরি হওয়া সরকারি সম্পদ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি যোগাযোগব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। গত ৪ জুন এই সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় সিটিটিসি অভিযান চালিয়ে চোরাই মাল উদ্ধার এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।