নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশ ও প্রশাসনের একটি অংশ বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। বুধবার ফেনীতে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে পারে, তাদের মন জোগাতে এখন থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। […]
নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশ ও প্রশাসনের একটি অংশ বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বুধবার ফেনীতে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে পারে, তাদের মন জোগাতে এখন থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। ক্ষমতামুখী দলগুলোর সন্তুষ্টি পেতে গুলশান ও পল্টনকেন্দ্রিক তৎপরতা আবারও শুরু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রশাসন ও পুলিশকে অবশ্যই দলনিরপেক্ষ ও বাংলাদেশপন্থি হতে হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, অতীতে জুলাইয়ের ঘটনার সময় সহকর্মীদের যে ভয়াবহ পরিণতি হয়েছিল, তা যেন তারা ভুলে না যান। কোনো রাজনৈতিক দলের নয়—বিএনপি বা জামায়াত কারও নয়—প্রশাসন ও পুলিশকে কেবল বাংলাদেশের পক্ষেই অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, কিছু জেলায় এসপি ও ওসিরা বিএনপির প্রার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন আচরণে জড়িতদের পরিণতি সাবেক বিতর্কিত কর্মকর্তাদের মতোই হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কারচুপি হলে তরুণ প্রজন্ম তা মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করেন এনসিপির এই নেতা।
বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, চাঁদার টাকায় বাস ভাড়া করে লোকজন এনে সমাবেশ করতে হয়। অথচ হাদি ভাইয়ের জানাজায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষের ঢল নেমেছিল। সেই বিশাল জনসমাগম নিয়েও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ অপরাধী, অর্থ জোগানদাতা এবং বিদেশে বসে যারা পরিকল্পনা করেছে—সবার দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে এসব ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হচ্ছে।
কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতার ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, মাত্র দুই-তিনটি আসনের লোভে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বিসর্জন দিয়ে অন্য দলে চলে যাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি বলেন, জনগণ একটি ব্যালট বিপ্লব প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কিছু পক্ষ বুলেট বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছে—যা দেশের জন্য অশনিসংকেত।