ভারতের লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদা দেওয়ার একটি বিল পাস হয়েছে। নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তুমুল বিতর্কের মধ্যেই কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী দলগুলোর আনা সব সংশোধনী প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়। বিল পাসের পর ডিএমকের সাংসদ এ রাজা প্রতিবাদস্বরূপ কিছু কাগজ ছিঁড়ে […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদা দেওয়ার একটি বিল পাস হয়েছে। নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তুমুল বিতর্কের মধ্যেই কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী দলগুলোর আনা সব সংশোধনী প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়। বিল পাসের পর ডিএমকের সাংসদ এ রাজা প্রতিবাদস্বরূপ কিছু কাগজ ছিঁড়ে স্পিকারের আসনের সামনে ছুড়ে মারেন। পরে দিনের জন্য লোকসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
বিতর্কে অংশ নিয়ে ডিএমকের সাংসদ কে. কানিঝা বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, এটি জাতীয়তাবাদের আড়ালে একটি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা। তার দাবি, সংবিধান প্রণেতারা ‘বন্দে মাতরম’-এর মাত্র দুটি স্তবক গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু নতুন আইনে পুরো গানকে বাধ্যতামূলক করা এবং তা না মানলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী।
অন্যদিকে বিজেপির সাংসদ সম্বিত পাত্র অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’-কে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেয়নি।
বিলের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, কংগ্রেস তোষণের রাজনীতি করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার জাতীয় গানকে তার প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর অবমাননা বা পরিবেশনায় বাধা দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডও হতে পারে।
নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে একই ধরনের শাস্তির বিধান ‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
উল্লেখ্য, চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনে এটিই লোকসভায় পাস হওয়া প্রথম বিল।
সূত্র: এনডিটিভি