ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর এক মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে সংঘটিত একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি “সব জানেন” এবং সে ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারেরও ভূমিকা ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় […]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর এক মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে সংঘটিত একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি “সব জানেন” এবং সে ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারেরও ভূমিকা ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জী বলেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা এক “বড় খুনিকে” পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল। তিনি আরও দাবি করেন, পরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
মমতা বলেন, “কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, কারা জড়িত ছিল—সব আমি জানি। সরকার বদলালেও সত্য বদলায় না।”
যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার নাম বলেননি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গই তুলেছেন। গত মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাংলাদেশি নাগরিক ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল।
মমতার বক্তব্য প্রকাশের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। দলটির নেতারা বলেন, একজন ভারতীয় শীর্ষ রাজনীতিক যখন প্রকাশ্যে এমন ইঙ্গিত দেন, তখন বাংলাদেশ সরকারের উচিত আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া।
এনসিপির এক নেতা বলেন, “সীমান্তে কড়াকড়ি থাকার পরও কীভাবে অভিযুক্তরা দ্রুত ভারতে আশ্রয় পেল, সেটিও তদন্ত হওয়া দরকার। মমতার বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।”
জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বক্তব্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ভারতের প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত রয়েছে। জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব রাখার চেষ্টা করছে এবং মমতার বক্তব্য সেই সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।
তবে বিএনপি তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও কয়েকজন নেতা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বলেন, ভারতীয় রাজনীতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে টেনে আনা অনভিপ্রেত।
সরকারের পক্ষ থেকেও এসেছে সংযত প্রতিক্রিয়া। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, মমতা ব্যানার্জী ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বক্তব্য দিয়েছেন। তাই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তিনি জানান, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতার বক্তব্যে বাংলাদেশের নাম এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রসঙ্গ আসায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেও তারা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে একে অপরকে আক্রমণ করতে গিয়ে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন নয়। কিন্তু প্রতিবেশী একটি দেশের আলোচিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে এ ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌতূহল তৈরি করেছে।