সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাহী […]
ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই সাংবিধানিক ভারসাম্যকে দুর্বল করছে বলে তাদের অভিযোগ।
বিবৃতিতে দলটি উল্লেখ করে, দীর্ঘদিন ধরেই দেশে কার্যকর ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার দাবি রয়েছে। বিচার বিভাগীয় প্রশাসন যদি আবার নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এনসিপির মতে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ ছিল। এটিকে দুর্বল না করে বরং আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
দলটি আরও বলেছে, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে নাগরিকদের ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থলও ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যায়।
বিবৃতিতে সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, বিচার বিভাগীয় সচিবালয়কে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর করা, বিচারকদের প্রশাসনিক কাজে নির্বাহী হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগের পূর্ণ প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
এনসিপি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা রাজনৈতিক, আইনগত ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।