সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৫:১২ পিএম, ৬ আগস্ট ২০২৬

বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি

দেশের সব বিমানবন্দরে ভিআইপি, সিআইপি কিংবা বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত যাত্রী—কেউই আর নিরাপত্তা তল্লাশির বাইরে থাকবেন না। সবার ক্ষেত্রেই একই ধরনের নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় এ নির্দেশনা দেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও […]

বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

দেশের সব বিমানবন্দরে ভিআইপি, সিআইপি কিংবা বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত যাত্রী—কেউই আর নিরাপত্তা তল্লাশির বাইরে থাকবেন না। সবার ক্ষেত্রেই একই ধরনের নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় এ নির্দেশনা দেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

সভায় মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো যাত্রীর ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম করা যাবে না। ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবাইকে একই নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও নির্দেশ দেন, এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর আসন্ন নিরাপত্তা নিরীক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মূল্যায়নের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি জড়িত। তাই যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে আইসিএওর মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী আফরোজা খানম যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের ওপরও জোর দেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও উন্নত ও সহজ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত স্ক্যানার ও অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন তিনি। বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।

সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানো, জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম বন্ধে ক্যাব, এপিবিএন, বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশও করেছে কমিটি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ