সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ সম্ভব হতে পারে। সোমবার […]
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।
তার মতে, শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ সম্ভব হতে পারে।
সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শিশির মনির ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া’ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বর্তমানে কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি না থাকলেও দুই দেশের মধ্যে ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।
শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএইতে গ্রেপ্তারের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠাতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলা সংক্রান্ত নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্বের তথ্য, অভিযোগের বিবরণ এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, প্রত্যর্পণের আবেদন পাওয়ার পর ইউএইর আদালত কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত অপরাধটি উভয় দেশের আইন অনুযায়ী অপরাধ কি না, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পর অভিযুক্ত ন্যায়সঙ্গত বিচার পাবেন কি না।
একটি পূর্ববর্তী উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হত্যা মামলার দুই আসামিকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ফলে যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে প্রত্যর্পণ অসম্ভব নয়।
সবশেষে শিশির মনির বলেন, বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ সফল হওয়ার জন্য তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—শক্তিশালী ও নির্ভুল আইনি নথিপত্র, সঠিক তথ্য উপস্থাপন এবং উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা।
তার মতে, এসব শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।