সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান জানতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে ই-মেইলে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একাধিক সূত্র। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদ কোথায় অবস্থান করছেন […]
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান জানতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে ই-মেইলে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একাধিক সূত্র।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদ কোথায় অবস্থান করছেন তা জানতে এনসিবির মাধ্যমে ইন্টারপোলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
কেন আবার চিঠি পাঠানো হলো—জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেনজীর দুবাই ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তাই তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতেই ইন্টারপোলের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল দেশটির পুলিশ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এর পর থেকেই কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
বেনজীরকে গ্রেপ্তারের পর দুবাই পুলিশ তার মামলার নথিপত্র চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি পাঠায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নথি পাঠায়। পরবর্তী সময়ে বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য আরও কিছু আইনি ও কারিগরি তথ্য চাওয়া হলে সেগুলোও পাঠানো হয়।
এরপর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে গত ২৭ জুলাই আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, জামিনে মুক্তির পর বেনজীর ক্যারিবীয় দেশ সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়কারী এনসিবি শাখায় কাজ করা একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন কোনো চুক্তি নেই।
তবে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও পারস্পরিক আইনি সহায়তা বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে আসামি ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, বেনজীরকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট অপরাধের যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ, দুই দেশের আইনের মধ্যে সামঞ্জস্য, আদালতে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা।
দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছয়টি মামলা করেছে। এ ছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার পরই দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা উদাহরণ হিসেবে জানান, চলতি বছরের ৭ মে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একই মামলার আরেক আসামি মহসিন মিয়াকেও দেশে ফেরানো হয়েছিল।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেলেও তাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা সব সময় সহজ হয় না। নাগরিকত্ব, একাধিক দেশের পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন দেশে সম্পদ বা বিনিয়োগের মতো বিষয় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করতে পারে।
বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান ও তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পরবর্তী পদক্ষেপ এখন ইন্টারপোলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক, সমকাল