ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নির্বাচনি জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে চলমান আন্দোলনে ভারতের তরুণদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘ভারতের তরুণদের প্রতি সংহতি’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এ অবস্থান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, দক্ষিণ […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নির্বাচনি জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে চলমান আন্দোলনে ভারতের তরুণদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘ভারতের তরুণদের প্রতি সংহতি’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এ অবস্থান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জবাবদিহিমূলক সরকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণদের সংগ্রাম পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
বিবৃতিতে ভারতের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, আন্দোলন সংগঠক ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ এবং যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
নাহিদ ইসলামের বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের নির্বাচনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর জবাব স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়া প্রয়োজন। বাধা সৃষ্টি কিংবা সেন্সরশিপের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের সমাধান সম্ভব নয় বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। পাশাপাশি আটক আন্দোলন সংগঠকদের অবস্থান ও আটকের আইনি ভিত্তি প্রকাশ, অধিকার চর্চার কারণে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি কিংবা সরঞ্জাম জব্দের আশঙ্কা ছাড়াই কাজ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রের প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে জাতিসংঘের হিসাব উদ্ধৃত করে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান ও তা দমনের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন।
বাংলাদেশের আন্দোলনের সময় ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন মতের মানুষের সংহতির কথাও স্মরণ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐতিহ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে শাহিনবাগের নারীদের নাগরিকত্বের সমতার দাবিতে আন্দোলন এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করা হয়।
ভারতের রাজপথে তরুণীদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও নারীরা সামনের সারিতে ছিলেন। তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ আন্দোলনের বিজয় অর্জনে ভূমিকা রেখেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও ধর্মীয় আধিপত্যবাদের ভিত্তিতে এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে না।
বাংলাদেশ ও ভারতে কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বিরোধিতা করার কথা জানিয়ে ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণিনির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে ভারতের তরুণ নেতা শরজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গও এসেছে। এতে দাবি করা হয়, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিচার ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন। আন্দোলনকারী ও বিবেকের কারণে বন্দি ব্যক্তিদের সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁদের সাহস দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের অনুপ্রাণিত করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সমস্যাগুলোর মধ্যে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পানি বণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে।
এতে এমন একটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্যাশা জানানো হয়, যেখানে দেশগুলো পরস্পরকে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে, সরকারগুলো জবাবদিহির আওতায় থাকবে এবং আধিপত্য বিস্তারের অজুহাত হিসেবে সার্বভৌমত্বকে ব্যবহার করা হবে না।
বিবৃতির শেষাংশে ভারতের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে ফ্যাসিবাদ ও বিভাজনের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন