সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
৮:৪০ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতে বসেই রাজনৈতিক পুনরুত্থানের কৌশল আঁকছে আওয়ামী লীগ: গার্ডিয়ান

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও অর্থ আত্মসাতসহ নানা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের বহু নেতা বর্তমানে পলাতক। অথচ ভারতের কলকাতার ব্যস্ত শপিং মলের ফুড কোর্টে বসে কফি পান করতে করতেই তারা আবার বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন—এমন চিত্র তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৬ মাস আগে শেখ হাসিনার শাসনের […]

ভারতে বসেই রাজনৈতিক পুনরুত্থানের কৌশল আঁকছে আওয়ামী লীগ: গার্ডিয়ান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও অর্থ আত্মসাতসহ নানা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের বহু নেতা বর্তমানে পলাতক। অথচ ভারতের কলকাতার ব্যস্ত শপিং মলের ফুড কোর্টে বসে কফি পান করতে করতেই তারা আবার বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন—এমন চিত্র তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৬ মাস আগে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত এক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তিনি নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। বিক্ষোভকারীদের রোষানলে পড়ে হেলিকপ্টারে দেশ ছাড়েন তিনি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই অভ্যুত্থান দমনে সরকারের সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়।

শেখ হাসিনার পতনের পর হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী দেশ ছেড়ে পালান। তাঁদের একটি বড় অংশ বর্তমানে ভারতের সীমান্তবর্তী শহর কলকাতায় আত্মগোপনে রয়েছেন। গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ছয় শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা সেখানে অবস্থান করছেন এবং ভারত এখন তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। একই সঙ্গে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ ও প্রচার কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর শাসনামলের শেষ পর্যায়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে তিনি সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে ভারত থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে সমর্থকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।

দিল্লির একটি সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করে শেখ হাসিনা নিয়মিত বাংলাদেশে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ফোন ও অনলাইন বৈঠক করছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন গার্ডিয়ানকে জানান, শেখ হাসিনা দিনে ১৫–১৬ ঘণ্টা দলীয় যোগাযোগে ব্যস্ত থাকেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য দলকে প্রস্তুত করছেন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ‘বীরের বেশে’ ফিরবেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত আগের দুটি নির্বাচন ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত ছিল। শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও আওয়ামী লীগ দাবি করছে—তাদের বাইরে রেখে নির্বাচন হলে গণতান্ত্রিক বৈধতা হারাবে।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ মনে করেন এবং কর্মীদের ভোট ও প্রচার থেকে দূরে থাকতে বলেছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য তুলে ধরে গার্ডিয়ান জানায়, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী মত দমন, গুম, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে দলটির অনেক নেতা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতি নয়াদিল্লির জন্যও কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ রাজনৈতিক পলাতকদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ভারত সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শেখ হাসিনার দিল্লিতে জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।

কলকাতায় অবস্থানরত সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় গার্ডিয়ানকে বলেন, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ছিল না এবং কিছু নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে—এটা তিনি স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, এই নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং পরিস্থিতি একসময় বদলাবে।

প্রতিবেদনটির উপসংহারে বলা হয়, নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল ও দেশের স্থিতিশীলতার ওপর। তাঁদের বিশ্বাস, বর্তমান প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে জনগণ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ