টানা ভারী বৃষ্টিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মুষলধারে বৃষ্টিতে দুই শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া, উদ্ধার অভিযান এবং সড়কে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লেহ নুল্লা খালের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে কাটারিয়ানে ২৯ ফুট এবং গাওয়ালমান্ডিতে ২৩ দশমিক […]
ছবি: সংগৃহীত
টানা ভারী বৃষ্টিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মুষলধারে বৃষ্টিতে দুই শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া, উদ্ধার অভিযান এবং সড়কে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লেহ নুল্লা খালের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে কাটারিয়ানে ২৯ ফুট এবং গাওয়ালমান্ডিতে ২৩ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতায় উঠেছে। খাল অববাহিকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ‘রেসকিউ ১১২২’। এরই মধ্যে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব মানুষ এখনো ঘরের ভেতরে পানিবন্দি হয়ে আছেন, তাদের উদ্ধারে কাজ করছে উদ্ধারকারী দল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক পরিমাণ পানি জমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, শামসাবাদে সর্বোচ্চ ২০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিউ কাটারিয়ানে ১৮৬ মিলিমিটার, গোলরায় ১৫৭ মিলিমিটার এবং এইচ-৮/২ এলাকায় ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সাইদপুরে ১০৪, পির ওয়াধাইয়ে ৮৬, কাচেরিতে ৭৪ এবং বোকরায় ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান নওয়াজ মেমন জানান, রাওয়াল বাঁধের পানির উচ্চতা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় দুপুর ২টায় বাঁধের স্পিলওয়ে খুলে পানি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে নাগরিকদের নালা ও পানিপ্রবাহের পথের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে প্রশাসন।
অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে ইসলামাবাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট।
ট্রাফিক পুলিশ চালকদের বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পাশাপাশি গাড়ির গতি কমিয়ে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। কোথাও দৃষ্টিসীমা কমে গেলে ফগ লাইট ব্যবহার করে নির্ধারিত লেন অনুসরণ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক হামিদ মীর এবং সাবেক জলবায়ুমন্ত্রী শেরি রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃষ্টিজনিত বন্যা পরিস্থিতির বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এসব ভিডিওতে ইসলামাবাদ এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে থাকতে দেখা যায়। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়ি পানিতে আটকা পড়ে এবং কিছু গাড়ি প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত ডুবে যায়।
শেরি রহমান জানান, সোমবার রাতের পর থেকেই ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির আবহাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের উত্তরাঞ্চলে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাওয়ালপিন্ডির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।