এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অ্যাপলের নেতৃত্বে থাকা টিম কুক এবার সিইওর চেয়ার ছেড়ে দিলেন। কিন্তু দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেই যে তিনি পুরোপুরি আড়ালে চলে যাচ্ছেন, বিষয়টি তেমন নয়। বরং অ্যাপলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের জায়গায় তাঁর অভিজ্ঞতাই এবার আরও বেশি কাজে লাগতে পারে। জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টিম […]
ফাইল ছবি
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অ্যাপলের নেতৃত্বে থাকা টিম কুক এবার সিইওর চেয়ার ছেড়ে দিলেন। কিন্তু দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেই যে তিনি পুরোপুরি আড়ালে চলে যাচ্ছেন, বিষয়টি তেমন নয়। বরং অ্যাপলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের জায়গায় তাঁর অভিজ্ঞতাই এবার আরও বেশি কাজে লাগতে পারে।
জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টিম কুকের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তিনি এখন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান। অর্থাৎ প্রতিদিনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা আগের মতো না থাকলেও অ্যাপলের নীতিগত ও কূটনৈতিক যোগাযোগে কুকের গুরুত্ব থাকছে।
আর এখানেই সামনে আসছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গ।
টিম কুক ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনা রয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থে দুজনের মধ্যে একাধিকবার সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে।
ট্রাম্পের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কুকের উপস্থিতিও দেখা গেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে কিং চার্লসের সম্মানে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেও কুক অতিথিদের তালিকায় ছিলেন।
তবে তাঁদের সম্পর্ক কেবল সৌজন্য সাক্ষাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অ্যাপলের বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং শুল্কনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে কুকের আলোচনা হয়েছে।
অ্যাপলের মতো বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শুল্ক, উৎপাদন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি নীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো বিষয়ে মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্ত সরাসরি অ্যাপলের ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই জায়গাতেই কুকের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হতে পারে।
সিইও পদে থাকার সময় তিনি একাধিক মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলে তাঁর যে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, তা হঠাৎ করে হারিয়ে ফেলতে চাইবে না অ্যাপল—এমনটাই স্বাভাবিক।
কুক ও ট্রাম্পের সম্পর্কের আরেকটি দিকও রয়েছে। সব বিষয়ে তাঁদের অবস্থান এক ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে বিদেশে আইফোন উৎপাদন নিয়ে তিনি একাধিকবার অ্যাপলের নীতির সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পথেও এগিয়েছে অ্যাপল।
২০২৫ সালে অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করলে ট্রাম্প প্রকাশ্যে সেটির প্রশংসা করেন। সেই সময় কুকও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি এক পর্যায়ে কুকের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল।
টিম কুক সরে যাওয়ার পর অ্যাপলের দৈনন্দিন নেতৃত্বের দায়িত্ব এখন জন টার্নাসের হাতে।
হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন কাজ করা টার্নাস অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত কার্যক্রমে অভিজ্ঞ হলেও কুকের মতো দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ তাঁর নেই।
ফলে কোম্পানির ভেতরের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে অ্যাপলের যোগাযোগে কুকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
টিম কুককে ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি ‘বিশেষ দূত’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করার মতো তথ্য নেই।
তবে কুকের নতুন কর্পোরেট ভূমিকা এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সরাসরি যোগাযোগের কারণে তাঁকে অনেকটা অ্যাপলের অনানুষ্ঠানিক দূত বা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থাৎ, অ্যাপলের সিইওর পদ থেকে টিম কুক বিদায় নিলেও ক্ষমতার কেন্দ্র ওয়াশিংটনে তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের মূল্য কমছে না।
বরং নতুন সিইও যখন অ্যাপলের প্রযুক্তি ও ব্যবসার হাল ধরবেন, তখন কুক হয়তো আরও বেশি মনোযোগ দেবেন সেই জায়গায়—যেখানে রাজনীতি, নীতি আর ব্যবসা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।
সিইওর চেয়ার বদলেছে, কিন্তু অ্যাপলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দরজায় কড়া নাড়ার দায়িত্ব থেকে টিম কুক পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না—এটাই এখন সবচেয়ে বড় বার্তা।